© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সাদা গাউনে কানে মুগ্ধতা ছড়ালেন তারা সুতারিয়া

শেয়ার করুন:
সাদা গাউনে কানে মুগ্ধতা ছড়ালেন তারা সুতারিয়া

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৪৪ পিএম | ১৬ মে, ২০২৬
বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে অভিজাত মঞ্চগুলোর একটি কান চলচ্চিত্র উৎসব। এখানে প্রতিটি পদচারণা, প্রতিটি পোশাক আর প্রতিটি উপস্থিতিই হয়ে ওঠে বৈশ্বিক আলোচনার বিষয়। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রেই এবার জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় অভিনেত্রী তারা সুতারিয়া। কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের অভিষেকেই তিনি যেন জানিয়ে দিলেন-গ্ল্যামার, এলিগ্যান্স আর ক্ল্যাসিক সৌন্দর্যের ভাষা তিনি খুব ভালোভাবেই জানেন।



কান উৎসব চলাকালে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘উইমেন ইন সিনেমা গালা ডিনার’-এ তারার উপস্থিতি ছিল এক কথায় মোহনীয়। রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিবেলে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রভাবশালী নারীদের সম্মান জানানো হয়। শুধু অংশগ্রহণই নয়, এ বছর সেই সম্মাননা পাওয়ার তালিকাতেও ছিলেন তারা সুতারিয়া। ফলে সন্ধ্যাটির গুরুত্ব তার জন্য ছিল আরও বিশেষ।



আর সেই বিশেষ মুহূর্তের জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন এমন একটি লুক, যা একই সঙ্গে রাজকীয়, রোমান্টিক এবং কালজয়ী। পুরো সাদা রঙের ক্যুচার উপস্থিতিতে তিনি যেন আধুনিক যুগের কোনো রাজকন্যা। তার পরনে ছিল কিংবদন্তি ফ্যাশন হাউস ভিভিয়েন ওয়েস্টউডের তৈরি আইভরি শেডের সাটিন গাউন। পোশাকটির প্রতিটি ভাঁজে ছিল ক্ল্যাসিক ইউরোপীয় ক্যুচারের নান্দনিকতা।



গাউনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল ডিজাইনারের স্বাক্ষরধর্মী ড্র্যাপড করসেটরি। কোমরের গঠনকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা এই করসেট ডিজাইন তার পুরো লুকে এনে দেয় এক অভিজাত স্ট্রাকচার। অফ-শোল্ডার কাট, স্ট্রাকচার্ড নেকলাইন এবং বিস্তৃত সিলুয়েট মিলে তৈরি করেছে এক স্বপ্নময় রাজকীয় আবহ। পোশাকটির প্রবাহমানতা ছিল এতটাই স্বাভাবিক যে, মনে হচ্ছিল তিনি যেন রেড কার্পেটে হাঁটছেন না, ভেসে বেড়াচ্ছেন।



সাদা রঙকে অনেকেই সরলতার প্রতীক মনে করেন, কিন্তু তারা সুতারিয়া দেখালেন, সঠিক স্টাইলিংয়ে এই রংই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। তার এই লুকে ছিল না অতিরিক্ত অলংকরণের চাপ, বরং ছিল পরিমিত সৌন্দর্যের পরিশীলিত প্রকাশ।

অ্যাক্সেসরিজ নির্বাচনেও ছিল একই রকম সূক্ষ্ম রুচির ছাপ। ফরাসি জুয়েলারি ব্র্যান্ড মেসিকার হীরা ও পান্নাখচিত নেকলেস, স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং ব্রেসলেট পুরো লুকে যোগ করেছে বিলাসী আভা। গয়নার ঝলক পোশাককে ছাপিয়ে যায়নি, বরং নিঃশব্দে তার সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

চুল ও মেকআপেও তারা ধরে রেখেছেন ক্ল্যাসিক গ্ল্যামের ধারাবাহিকতা। মাঝখানে সিঁথি করা মসৃণ খোঁপা তার মুখাবয়বকে আরও শার্প ও পরিণত দেখিয়েছে। অন্যদিকে মেকআপে ছিল নরম গ্লো; উজ্জ্বল ত্বক, সুগঠিত গাল, স্পষ্ট চোখের সাজ এবং ন্যুড শেডের ঠোঁট। সব মিলিয়ে তার লুকটি ছিল এমন এক উদাহরণ, যেখানে কমনীয়তা আর গ্ল্যামার একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে।



তবে শুধু ফ্যাশন নয়, কানে তার উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে আরও বড় প্রত্যাশা। তার আসন্ন চলচ্চিত্র টক্সিক নিয়ে ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আর এই উৎসবে তার আত্মবিশ্বাসী ও পরিশীলিত উপস্থিতি যেন সেই প্রত্যাশাকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে।

বর্তমান সময়ে রেড কার্পেট ফ্যাশন প্রায়ই অতিরিক্ত নাটকীয়তা বা ট্রেন্ডের ভিড়ে হারিয়ে যায়। সেখানে তারা সুতারিয়ার এই উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয়, সত্যিকারের স্টাইল কখনো চিৎকার করে নিজের পরিচয় দেয় না। বরং নীরব সৌন্দর্য, নিখুঁত কাট আর আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্বই একজনকে আলাদা করে তোলে।

কানে প্রথম উপস্থিতিতেই তারা সুতারিয়া প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী নন; তিনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠছেন নতুন প্রজন্মের এক আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আইকন।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন