মেসি-রোনালদোসহ বিশ্বকাপের সবুজ গালিচায় শেষবার আলো ছড়াবেন কারা?
ছবি: সংগৃহীত
০৬:১১ পিএম | ১৬ মে, ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। সেই উত্তেজনা রীতিমতো কড়া নাড়ছে ফুটবলপ্রেমীদের দরজায়। তবে, হতাশার বাণীও রয়েছে এই উন্মাদনায়। বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারকে শেষবারের মতো এবার দেখা যাবে বিশ্বকাপের সবুজ গালিচায়।
প্রতি বিশ্বকাপের আসরেই ঝলমল করে নিজেদের আগমনী বার্তা জানান দেয় একঝাঁক উদীয়মান তারকা। আরেকদিকে, বয়সের সঙ্গে লড়ে বিদায় নেয় একঝাঁক ধ্রুবতারা। যাকে বলা হয় নতুনের আগমনে পুরনোর বিদায় নেয়া। এবারের বিশ্বকাপে এই বিদায়ীদের তালিকা বেশ বড় হতে যাচ্ছে। যেখানে রয়েছেন বর্তমান বিশ্বের ফুটবলের দুই নক্ষত্র আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি এবং পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকা। দু’জনেরই এটি ষষ্ঠ ও শেষ বিশ্বকাপ। তালিকায় থাকা বাকি নাম গুলোও চিরচেনা।
লিওনেল মেসি: ৩৯ বছর বয়সে এবারের বিশ্বকাপে খেলবেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ও আগেরবার আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দুটি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বলসহ আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ক্যারিয়ে এমন কিছুই বাকি নেই, যা জেতেননি মেসি। ইতোমধ্যেই দেশের মাটিতে খেলে ফেলেছেন নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। শিরোপা ধরে রেখে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আরও একটি তারকা যোগ করে হয়ত বিদায় নিতে চাইবেন লিও। আগামী বিশ্বকাপে আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসিকে মিস করবে আর্জেন্টাইন ভক্তরা।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: ফেব্রুয়ারিতে ৪১-এ পা রেখেছেন এ পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ২০৩০ সালের আসরে রোনালদোর বয়স দাঁড়াবে ৪৫ বছরে। সে বিবেচনায় এই বিশ্বকাপই হয়তো শেষ বিশ্বকাপ তার। নিজেও ঘোষণা দিয়েছেন, এবারই তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে তার যে ফিটনেস, তা অনেক ২৫ বছর বয়সী ফুটবলারকেও হার মানাবে। তিনি যদি এটি ধরে রাখেন আর নিজের ফর্মের ৭০ ভাগও দিতে পারেন তাহলে কে জানে, হয়ত পরের বিশ্বকাপে দেখা যেতেও পারে তাকে। পাশাপাশি রোনালদো জুনিয়রের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করা এবং একসঙ্গে খেলার সুপ্ত বাসনা রয়েছে সিআর সেভেনের। নিজের ছেলের সঙ্গে একসাথে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার অবতারে তাকে দেখতেই চাইবে ফুটবল ভক্তরা। তবে সেটি বেশ কঠিন। একবারও বিশ্বকাপ না জেতা পর্তুগালকে এবারই হয়ত শিরোপা জেতাতে সর্বোচ্চটা ঢেলে দেবেন তিনি।
নেইমার জুনিয়র: তারকাদের বয়সের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার নেইমার। বয়স চলছে ৩৪। সে হিসেবে পরের বিশ্বকাপে তার বয়স হবে ৩৮। ফর্ম বিবেচনায় এখনও নিয়মিত গোল করেন নেইমার। ফর্মে থাকলে হয়তো পরের বিশ্বকাপে দেখা যাবে নেইমারকে। তবে ইউরোপিয়ান ফুটবল থেকে সরে যাওয়া এবং তার ইনজুরি এক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সার্বিক বিবেচনায় ব্রাজিলের মূল স্কোয়াড হয়ে একাদশে যদি নেইমার দেখা দেন, তবুও এবারের আসরই তার শেষ বিশ্বকাপই হবার সম্ভাবনাই বেশি।

লুকা মদ্রিচ: ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচের বয়স এখন ৪০। ৮ বছর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়াটদের ফাইনালে তুলে আনার নায়ক তিনি। দলকে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতাতে না পারলেও সবার মন জয় করে তার দল। সে বছরই ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জেতেন মদ্রিচ। খেলছেন এখনও। তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে তার দলে না থাকাটাই হবে স্বাভাবিক।
ম্যানুয়েল নয়্যার: ৪০ বছর বয়সী জার্মান গোলক্ষক নয়্যার দেশকে জিতিয়েছেন ২০১৪ বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও সম্প্রতি জার্মানির ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াডে তার নাম দেখা গেছে। বায়ার্ন মিউনিখের একাদশে এখনও নিয়মিত মুখ তিনি। মূল স্কোয়াড পেরিয়ে জার্মানির একাদশে যদি তাকে দেখা যায়, তাহলে ফুটবল ভক্তরা হয়ত খুশিই হবেন। পরের বিশ্বকাপে তার না থাকা একেবারে ধ্রুব সত্য।
মোহাম্মদ সালাহ: তর্কাতীতভাবে তার প্রজন্মের সর্বশ্রেষ্ঠ আফ্রিকান খেলোয়াড় সালাহ। দুইবারের বর্ষসেরা মিসরের এই ফুটবলার বিশ্বকাপ চলাকালীনই পা রাখবে ৩৪-এ। সম্ভবত এবারই হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ।
সন হিউং-মিন: তাকে বলা হয় আধুনিক ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্দান্ত এশিয়ান খেলোয়াড়। প্রিমিয়ার লিগে গোল্ডেন বুট জেতা এই দক্ষিণ কোরিয়ান লেফট উইঙ্গারের বয়স ৩৩। ইউরোপ ছেড়েছেন আগেই। আগামী বিশ্বকাপে তার না খেলার সম্ভাবনাই বেশি।
এই তালিকায় আরও রয়েছেন নেদারল্যান্ডের ভ্যান ডাইক, মেক্সিকান গোলরক্ষক গুইলারমো ওচোয়া, পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডোভস্কি, কলম্বিয়ার জেমস রদ্রিগেজ।
এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ৪৮ দল। আগের যেকোনো বারের চেয়ে বড় পরিসরে হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। বিখ্যাত ফুটবলারদের এই তালিকায় এশিয়া, আফ্রিকা কিংবা মধ্য আমেরিকার আরও অনেকেই রয়েছেন। যারা হয়ত বৈশ্বিকভাবে খুব একটা সুপরিচিত নন। তবে নিজ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন অনেকটা সময়জুড়ে। ইরান, সৌদি আরব, ঘানা, উজবেকিস্তান, সেনেগাল কিংবা নিউজিল্যান্ড- দেশগুলোতে কিছু খেলোয়াড় রয়েছেন যাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রায় দশকখানেক। তাদের বিদায়েও মন খারাপ হবে ফুটবল ভক্তদের। নিজ দেশে তারাও খুব জনপ্রিয়।
এসকে/টিকে