যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক সেন্টারে বন্দুক হামলায় নিহত ৫
ছবি: সংগৃহীত
০৬:২৯ এএম | ১৯ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোতে একটি ইসলামিক সেন্টারে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটিকে ‘হেট ক্রাইম’ তথা ঘৃণা বা বিদ্বেষজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
সোমবার (১৮ মে) স্থানীয় সময় যোহরের নামাজের কিছু আগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোতে একটি ইসলামিক সেন্টারে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় জড়িত সন্দেহে ১৭ ও ১৯ বছর বয়সি দুই যুবকও মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ সদস্য গুলি ছোড়েনি বলে নিশ্চিত করেছে এফবিআই।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৮ মে) স্থানীয় সময় যোহরের নামাজের কিছু আগে, ক্লেয়ারমন্ট এলাকার ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো (আইসিএসডি)-তে। এটি সান ডিয়েগো কাউন্টির বৃহত্তম মসজিদ।
সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল বলেন, ‘এটি প্রতিটি কমিউনিটির জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মতো ঘটনা।’ তিনি জানান, ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শিশুদের কোনো ক্ষতি হয়নি।
সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছেন। ঘটনার পরপরই পরিবারগুলোর জন্য একটি পুনর্মিলন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া বলেন, ‘বর্তমান হুমকি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এটি একটি বড় ট্র্যাজেডি।’ তিনি মুসলিম কমিউনিটির প্রতি সমবেদনা জানান এবং ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেন।
ইসলামিক সেন্টারের ইমাম তাহা হাসান বলেন, ‘আমরা এমন কোনো ট্র্যাজেডি আগে দেখিনি। উপাসনালয়কে লক্ষ্য করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।’ স্থানীয় হাসপাতাল শার্প মেমোরিয়াল জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম বলেন, প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে। তিনি বলেন, ‘উপাসনালয়ে মানুষকে কখনোই আতঙ্কে থাকতে হওয়া উচিত নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মসজিদ ও ধর্মীয় স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকেও এই বন্দুক হামলার ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি।’
আরআই/টিএ