ফুটবল বিশ্বকাপ মঞ্চে পারফর্ম করা আমার জন্য সম্মানের: সঞ্জয়
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০৮ পিএম | ১৯ মে, ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজনের এই সাংস্কৃতিক পর্বে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ইতিমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের পার্শ্ববর্তী মঞ্চে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বৈশ্বিক সংগীত জগতের বড় বড় তারকারাও পারফর্ম করবেন বলে জানা গেছে। এই তালিকায় থাকছেন কেটি পেরি ও লিসার মতো আন্তর্জাতিক তারকারা।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ডিজে সঞ্জয় বলেন, এই খবর শোনার পর তাঁর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। শৈশবে নিজের ঘরে বসে সংগীত তৈরি করা থেকে শুরু করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ওঠার স্বপ্ন সবকিছুই যেন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের ত্যাগ ও সমর্থনের কথাও গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগাভাগি করার বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সংগীতের কোনো সীমান্ত নেই এবং বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাঁকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করছে।

বাংলাদেশি শিকড় প্রসঙ্গে তিনি জানান, চট্টগ্রামে জন্ম এবং পরবর্তীতে ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠার কারণে তাঁর সংগীতে দুই সংস্কৃতিরই প্রভাব রয়েছে। ছোটবেলায় হাবিব ওয়াহিদ ও ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের গান তাঁর সংগীতচিন্তায় গভীর ছাপ ফেলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংগীতজীবনের শুরু নিয়ে তিনি জানান, খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি তবলা শেখার মাধ্যমে তাল-লয়ের সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে ল্যাপটপ ও সংগীত তৈরির সফটওয়্যারের মাধ্যমে তিনি নিজস্ব সুর নির্মাণ শুরু করেন, যা ধীরে ধীরে তাঁর পেশাগত যাত্রার ভিত্তি তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্রে সংগীতকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পথ সহজ ছিল না বলেও তিনি জানান। অভিবাসী জীবনের অনিশ্চয়তা, সাংস্কৃতিক চাপ ও নিজের স্বপ্নের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ধারাবাহিক পরিশ্রম ও শেখার মানসিকতাই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
দক্ষিণ এশীয় সংগীতশিল্পীদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তিনি আশাবাদী। তাঁর মতে, এখন বৈশ্বিক সংগীত জগতে দক্ষিণ এশিয়ার সুর, গল্প ও সংস্কৃতির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংগীত অঙ্গনের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিভাবান শিল্পীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।
নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের পরিস্থিতির চেয়েও বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে এবং হৃদয় থেকে সংগীত তৈরি করতে হবে। জোর করে নয়, বরং অনুভূতি থেকেই সংগীত তৈরি করাই প্রকৃত শিল্পের ভিত্তি।
বর্তমানে বিশ্বকাপ উদ্বোধনী মঞ্চের প্রস্তুতি ও নতুন সংগীত প্রকল্প নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন ডিজে সঞ্জয়। তাঁর মতে, এটি তাঁর সংগীতজীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
পিআর/এসএন