দেশে প্রায় ২০ হাজার প্রসবকালীন ফিস্টুলা রোগী আছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৫৬ পিএম | ২১ মে, ২০২৬
দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার প্রসবকালীন ফিস্টুলা রোগী আছে। এছাড়াও প্রতিবছর নতুন করে কয়েক হাজার ফিস্টুলা রোগী তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এ রোগ নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা বিভাগ, বেসকারি সংস্থা সিআইপিআরবি এবং ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ আয়োজিত সভায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সভায় বাংলাদেশে ফিস্টুলার বর্তমান পরিস্থিতি, জাতীয় অগ্রগতি, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
এর পাশাপাশি টেকসই বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণ, দক্ষ প্রসবসেবা সম্প্রসারণ এবং সময়মতো জরুরি প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করার দাবি করা হয়।
মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে দেশের ৩৯টি জেলা হাসপাতালে ফিস্টুলা কর্নার চালু রয়েছে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি ২৩টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন প্রশিক্ষিত ফিস্টুলা সার্জন নিয়মিত অস্ত্রোপচার সেবা প্রদান করছেন। যার অংশ হিসেবে প্রতিবছর গড়ে ৫০০-৬০০ জন রোগীর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হচ্ছে। প্রতিবছর সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য ২৩ মে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক প্রসবকালীন ফিস্টুলা নির্মূল দিবস।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রসবজনিত কারণে মারা যান ১৪ জন নারী। আর এই ১৪ জন নারীর মধ্যে শতকরা ৮ ভাগ নারীর মৃত্যু হয় বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত প্রসবের কারণে। তবে বাংলাদেশে ফিস্টুলা রোগীর সংখ্যা কত এ নিয়ে সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব অবস্টেট্রিক ফিস্টুলা সার্জন্সের (আইএসওএফএস) তথ্য মতে, ২০২৪ সালে দেশে ফিস্টুলা আক্রান্ত নারীর অনুমিত সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে অস্ত্রোপচার হয়েছে ৩ হাজার ১০৯ জনের। অর্থাৎ ৮২ শতাংশ নারী চিকিৎসার আওতার বাইরে আছেন।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগীর মধ্যে ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ প্রসূতি ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সে প্রথম প্রসব করেছিলেন। ফিস্টুলা রোগীদের মধ্যে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশের বয়স ছিল ৪০ থেকে ৪৯ বছর, ৫০ বছরের বেশি ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ, ২৬ দশমিক ১ শতাংশের বয়স ৩০ থেকে ৩৯ বছর, ৮ দশমিক ৭ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ২৯ বছর। এসব রোগীর ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। দেশের ১৮টি হাসপাতালে ভর্তি ৭১৯ জন ফিস্টুলা রোগীর ওপর চালানো এই গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে গড়ে ১৮ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর এসব রোগীর ৭০ শতাংশ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
এ ছাড়াও জরিপে দেখা যায়, দেশে প্রসবজনিত (বাধাগ্রস্ত প্রসব) কারণে ফিস্টুলায় আক্রান্তদের হার ৫৭ শতাংশ। আর জরায়ু অপসারণ করতে যে অস্ত্রোপচার হয়, সেক্ষেত্রে ৫৬ শতাংশ এবং অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসবের পরবর্তী আঘাতের কারণে ফিস্টুলায় আক্রান্ত হন ৪০ শতাংশ নারী।
আন্তর্জাতিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস প্রতি বছর ২৩ মে পালিত হয়। প্রসবজনিত জটিলতায় নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও এই রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে জাতিসংঘ ২০০৩ সাল থেকে দিবসটি পালন করে আসছে।
এমআর/টিকে