মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে আসছে নতুন ডকুসিরিজ ‘দ্য ভারডিক্ট’
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৮ পিএম | ২১ মে, ২০২৬
বিশ্বখ্যাত পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের ওপর নির্মিত ব্লকবাস্টার বায়োপিক ‘মাইকেল’র অভাবনীয় সফলতার পর, এবার তাকে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ নতুন ডকুসিরিজ নিয়ে আসছে স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স। তিন পর্বের এই তথ্যচিত্রের নাম রাখা হয়েছে ‘মাইকেল জ্যাকসন: দ্য ভারডিক্ট’।
আগামী ৩ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্মটিতে এটি প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে। ‘কিং অব পপ’ খ্যাত এই তারকার জীবনের ওপর নির্মিত এই নতুন সিরিজটি সম্পূর্ণভাবে জ্যাকসনের ২০০৫ সালের তার সেই বহুল আলোচিত ফৌজদারি মামলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
২০০৩ সালে তার বিরুদ্ধে ওঠা শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং সেই পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের যে নজিরবিহীন উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল- তা এই সিরিজে অত্যন্ত গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এই ডকুসিরিজে জ্যাকসনের মামলার উভয় পক্ষ, অর্থাৎ প্রসিকিউশন (অভিযোগকারী পক্ষ) এবং ডিফেন্স (আত্মপক্ষ সমর্থনকারী পক্ষ)- দুটিরই চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে এমন সব ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে যারা সরাসরি সেই সময় আদালতের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন; যার মধ্যে রয়েছেন জুরি সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, অভিযোগকারী এবং জ্যাকসনের আইনজীবীরা।

এছাড়াও মাঠপর্যায়ে থেকে এই ঐতিহাসিক ঘটনা কাভার করা বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও বিস্তারিত কথা বলেছেন নির্মাতারা। শো-রানার ডেভিড হারম্যানের সৃষ্টি এবং ‘ক্যান্ডেল ট্রু স্টোরিজ’-এর প্রযোজনায় নির্মিত এই সিরিজটির মূল লক্ষ্য ছিল দর্শককে সরাসরি সেই ঐতিহাসিক বিচার কক্ষের ভেতরে নিয়ে যাওয়া। আর এ কারণেই নির্মাতারা শুধুমাত্র সেইসব প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়েছেন যারা এই ঘটনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
নিক গ্রিনের পরিচালনায় এই তথ্যচিত্রটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে আছেন ফিওনা স্টুয়ার্টন, ডেভিড হারম্যান এবং জেমস গোল্ডস্টন। নেটফ্লিক্সের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘টুডুম’-এর সঙ্গে আলাপকালে নির্মাতারা জানান, এই বিচার প্রক্রিয়া এবং এর পেছনে রয়ে যাওয়া অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোকে নতুন করে খতিয়ে দেখার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। তারা এই প্রজেক্টটিকে একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন, যেখানে আদালতে যেভাবে তথ্যপ্রমাণ উন্মোচিত হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই তা দেখানো হয়েছে।
তারা উল্লেখ করেন, ‘মাইকেল জ্যাকসনের সেই ঐতিহাসিক বিচারের পর ২০ বছর কেটে গেছে, যেখানে তিনি সব অভিযোগ থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও আজ অবধি এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক কমেনি। যেহেতু সেই সময় আদালতের ভেতরে কোনো ক্যামেরা প্রবেশের অনুমতি ছিল না, তাই সাধারণ মানুষ কেবল সংবাদমাধ্যমের খণ্ডিত এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবেশিত খবরই দেখতে পেরেছিল। ফলে পুরো বিচার প্রক্রিয়াটির একটি ফরেনসিক বা নিরপেক্ষ চুলচেরা বিশ্লেষণ দীর্ঘকাল ধরেই বাকি ছিল।’
যদিও এই গ্লোবাল আইকন শেষ পর্যন্ত সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছিলেন, তবুও ২০০৯ সালে তার আকস্মিক মৃত্যুর পরও তার জটিল আইনি লড়াই এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনসাধারণের আগ্রহ এখনো আকাশচুম্বী।
নির্মাতাদের বিশ্বাস, যারা মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, এই ডকুসিরিজটি তাদের জন্য এক বিরল সুযোগ। এটি মূলত চার দেয়ালের মাঝে আটকে থাকা একটি রুদ্ধদ্বার ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করার সুযোগ করে দেবে।
সূত্র: জিও নিউজ
এসএ/টিকে