গত ২০ বছর ক্রীড়াঙ্গন ছিল রাজনীতির দখলে : স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪০ পিএম | ২৩ মে, ২০২৬
বিশাল মাঠকে দুইপাশে ভাগ করে মাঝ বরাবর করা হয়েছে দর্শকদের বসার স্থান। একপাশে বালক আরেক পাশে ক্ষুদে নারী খেলোয়াড়েরা বল নিয়ে ছুটছেন। বিশাল সবুজের সমারোহে কেউ গোলবারের উদ্দেশে শট নিচ্ছে, আবার কেউ উল্লাসে মেতে উঠছে সতীর্থদের সঙ্গে। এর মধ্যে ছোট ছোট গ্রুপের নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন ভলান্টিয়াররা। এ চিত্র যশোর সদর উপজেলার অজপাড়াগায়ে অবস্থিত শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির।
আজ শনিবার (২৩ মে) ফিফা ও এএফসির নির্দেশনায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আয়োজনে এই একাডেমিতে উদযাপিত হলো ‘এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডে ও ওয়ার্ল্ড ফুটবল ডে ২০২৬’। এটি ছিল দেশের পাঁচটি ভেন্যুর মধ্যে একটি।
এদিন খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের ৮০০ ক্ষুদে ফুটবলারের পদচারণায় রঙিন হয়ে উঠে এই ভেন্যু। মাঠে ঢুকতেই কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনি চোখে পড়ে। সবুজ ঘাসের উপর নিখুতভাবে সাদা দাগ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে পুরো মাঠ। চারিপাশে লাল, নীল, হলুদসহ বিভিন্ন রংয়ের ফ্লাগ উড়ানো হয়েছে। একাডেমির ভবনের সামনে বিশাল প্যান্ডেল করা হয়েছে।

সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে হঠাৎ হেলিকপ্টারে চড়ে আসেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তিনি। তাকে বরণ করে নেয় ফুটবলাররা। সত্তরের দশকে তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ও শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো চার্লোস এবং পাকিস্তানের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাচি জায়ান আজিজও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিক মুক্ত রাখতে হবে। বিগত ২০ বছর ক্রীড়াঙ্গন ছিলো রাজনীতির দখলে। আগে ক্রীড়াঙ্গনে কিছু দেওয়ার জন্য ক্রীড়ামোদিরা আসতেন; আর এখন আসেন নিতে। বাংলাদেশে ক্রীড়ামোদীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ক্রীড়ামোদিদের জায়গা রাজনীতি, ব্যবসায়ীরা দখল করেছে। এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।'
'নাসের জাহেদীর মতো যদি দেশে আরও দশজন ক্রীড়ামোদী থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশ হয়তো অনেক আগেই বিশ্বকাপের কাছাকাছি পৌঁছে যেতো। আমি আশা করি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যশোরের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের মানও আরও উন্নত হবে।'
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'দেশের গ্রাসরুট ফুটবল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে আর্জেন্টিনা থেকে কোচ আনার। যারা ভালো খেলবে, তাদের আর্জেন্টিনায় পাঠানোর বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।;
নাসের জাহেদী তার বক্তব্যে বলেন, 'আজকের দিনটি অনেক আনন্দের। তবে আজকের দিনটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে স্পিকার আমাদের মাঝে এসেছেন। তার আগমনে এই একাডেমিসহ সব ফুটবলাররা অনুপ্রাণিত হবে। আশা করি এই ধারা চলতে থাকবে।'
অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো চার্লোসও একাডেমির সুযোগ-সুবিধা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। শিশুদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ দেখে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'এখান থেকেই উঠে আসবে বাংলাদেশের আগামী দিনের ফুটবল তারকারা।'
আরআই/টিকে