আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়, নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩১ এএম | ২৫ মে, ২০২৬
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজধানীর অন্যতম প্রধান বহির্গমন পয়েন্ট হওয়ায় আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় নেমেছে বাস টার্মিনালে।
রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এয়ারপোর্ট, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং, আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
বাস সংকটের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া আর বাসের শিডিউল বিপর্যয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
প্রতিনিয়ত এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে একের পর এক ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ডে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত যাত্রীরা। কোথাও কোথাও কাউন্টারের সামনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের দীর্ঘ অবস্থান। প্রতিটি কাউন্টারে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন কাউন্টার মাস্টাররা। যাত্রী ডাকতে হাঁকডাকে সরগরম পুরো টার্মিনাল এলাকা। কাউন্টারগুলোর সামনে পরিবহন এসে দাঁড়াতেই নির্ধারিত গাড়িতে উঠতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন যাত্রীরা।
আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা এবং বিমানবন্দর পর্যন্ত মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ হওয়ার কারণে প্রায়ই ধীরগতি ও তীব্র যানজট তৈরি হয়।
আব্দুল্লাহপুর থেকে উত্তরবঙ্গগামী এক যাত্রী বলেন, আমার দুটো টিকিট ১৯০০ টাকা নিয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই টিকিটের দাম ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা সর্বোচ্চ। এখন ১৯০০ টাকা নিয়েছে। টিকিট কেটেছি ৫ দিন আগে। গাড়ি ছাড়ার কথা রাত সাড়ে ১০টায়। কিন্তু সাড়ে ১০টা বেজে গেছে এখনো গাড়ির খবর নেই।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটা গাড়ি এক ঘণ্টা, দেড় ঘণ্টা লেট করছে। সব কাউন্টারেই বলছে গাড়ি আসতে এক ঘণ্টা বা দেড় ঘণ্টা লেট হবে। কাউন্টার ম্যানেজমেন্টের লোকজন একটুও সতর্ক না।
নাটোরগামী একতা পরিবহনের অপর এক যাত্রী বলেন, টিকিটের মূল্য নিয়েছে এক হাজার টাকা। স্বাভাবিক সময়ে এই টিকিটের দাম ৬০০ টাকা। গাড়ির জন্য প্রায় দেড় ঘণ্টা যাবত অপেক্ষা করছি। এখনো গাড়ি আসেনি। প্রতিবার ঈদ আসলেই এভাবেই বাড়ি যাই।
একতা পরিবহনের ম্যানেজার দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকায় কিছু যানজট থাকার কারণে কিছুটা দেরি হচ্ছে। কিন্তু আমরা কোনো বাড়তি ভাড়া নিচ্ছি না। তবে অনেকেই খুশি হয়ে ৫০ টাকা ১০০ টাকা দেয়।
এসকে/এসএন