এবারের ঈদে ভর্তুকিতে মাংস দিচ্ছে ইরান সরকার
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩৩ পিএম | ২৮ মে, ২০২৬
মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা এবার ইরানের সাধারণ মানুষের কাছে এক কঠিন সময়ে হাজির হয়েছে।
ইরানে কুরবানির পশুর মাংস খাওয়ার প্রচলন থাকলেও, দেশের বন্দরগুলোতে অবরোধ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশজুড়ে মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।
পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’-এর মতো ঈদুল আজহা ইরানে অতটা ব্যাপকভাবে উদযাপিত না হলেও, মসজিদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত গবাদিপশু বিক্রয় ও জবাই কেন্দ্রের মাধ্যমে কুরবানির আনুষ্ঠানিকতা পালন করে থাকে।
এসব কেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইসলামি শরিয়ত মেনে পশু কুরবানি করা হয়। তবে এই ব্যবস্থার আরেকটি বড় উদ্দেশ্য হল, বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে মাংস সরবরাহ করে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা।
তেহরান সিটি কর্পোরেশনের একটি সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, নির্ধারিত দোকানগুলোতে কুরবানির মাংস প্রতি কেজি ৭৪ লাখ রিয়াল (৪.৩০ ডলার) মূল্যে বিক্রি করা হবে।
অথচ সাধারণ বাজারে মান এবং এলাকার ওপর ভিত্তি করে এই একই পরিমাণ মাংসের দাম সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরানে বর্তমানে একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি প্রতি মাসে ১০০ ডলারেরও কম। তেহরানের বাসিন্দা এক মধ্যবয়সী নারী আল-জাজিরাকে বলেন, আমি সাধারণত প্রতি তিন সপ্তাহে একবার তরকারি বা অন্য পদের জন্য মাংস কিনি। আমাদের মহল্লার কিছু পরিবারের কাছে এটি এখন এক ধরনের বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, লাল মাংসের বিকল্প হিসেবে এখন মানুষ মুরগি, ডিম এবং ডাল জাতীয় খাবার খাচ্ছে, তবে এসব নিত্যপণ্যের দামও অনেক বেড়ে গেছে।
মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রতিনিধি মাসুদ রাসুলি চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’-কে জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় লাল মাংসের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
তিনি জানান, মার্কিন অবরোধের প্রভাব মোকাবেলায় কিছু মাংস আমদানি করা হলেও বর্তমানে স্থানীয় বাজারে চাহিদা এতটা কম যে, বাজারে সমস্ত প্রয়োজন মেটানোর জন্য দেশীয় পশুই যথেষ্ট।
ইরানের শ্রমজীবী সংক্রান্ত সংবাদ সংস্থা ‘ইলনা’-র চলতি সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, ঈদে সরকার ঘোষিত মাংসের সর্বনিম্ন কেজি প্রতি মূল্য ১০ বছর আগের একটি ৫০ কেজি ওজনের জীবিত ভেড়ার দামের সমান।
দক্ষিণ-পশ্চিম তেহরানের একটি কসাইখানার একজন তরুণ কর্মী জানান, সরবরাহকারীরা দাম বাড়ানোর পর গত কয়েক মাসে তাদেরও বেশ কয়েকবার মাংসের দাম বাড়াতে হয়েছে।
আরআই/টিএ