© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করে নতুন চমক দেখালো ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

শেয়ার করুন:
মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করে নতুন চমক দেখালো ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৫১ পিএম | ২৮ মে, ২০২৬
কয়েক মাস ধরে চলা বোমাবর্ষণের পর আমেরিকার একটি সর্বাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। এই ঘটনার পর তেহরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি 'MQ-9 Reaper' ড্রোন ভূপাতিত করতে ইরান তাদের সম্পূর্ণ নতুন একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা এটিই প্রমাণ করে যে-মাসব্যাপী মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও তেহরান এখনও যেকোনো হামলা প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির কিশম দ্বীপের কাছে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। এই অভিযানে প্রথমবারের মতো ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'আরাশ-এ কামানগির' নামক একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ইরানের এই নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে এখনও স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এমন এক সময়ে হরমুজ প্রণালির মতো বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল নৌপথে আমেরিকার ড্রোনটি ধ্বংস হলো, যার আগেই বন্দর আব্বাসের কাছে একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। এর জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস একটি আমেরিকান বিমান ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।

একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাটি নতুন কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে: মাসের পর মাস ধরে চলা ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার পর ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আর কতটুকু অবশিষ্ট আছে? এবং চলমান আলোচনা ভেস্তে গেলে পরবর্তী হামলা মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা কি তেহরানের আছে?

ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আকাশে একটি শত্রুভাবাপন্ন নজরদারি ড্রোন প্রতিহত করতে 'আরাশ-এ কামানগির' ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে স্টিলথ বা রাডার ফাঁকি দেওয়া যান শনাক্ত করার ক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হলেও এর কারিগরি খুঁটিনাটি প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের মতে, এটি তাদের আকাশসীমা ও সামুদ্রিক সীমানার কাছে অবস্থান করা শত্রু বিমানের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন ইরান আমেরিকার সাথে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় হরমুজ প্রণালির আংশিক নিয়ন্ত্রণকে নিজেদের দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

ফার্স নিউজ অজ্ঞাত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, গোপন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে চালানো এই অভিযানটি ইরানের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট এবং নিষ্পত্তিমূলক বার্তা।

ফার্সির আরাশ-এ কামানগির শব্দটির অর্থ হলো তীরন্দাজ আরাশ। পারস্যের পৌরাণিক কাহিনীর এক বীরের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে, যিনি লোকগাথা অনুযায়ী তীর ছুড়ে ইরান ও মধ্য এশিয়ার মধ্যকার সীমানা নির্ধারণ করেছিলেন। ইরানি সাহিত্য ও কবিতায় আরাশকে বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই দাবি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মূল্যায়ন করা উচিত। তেহরানের সামরিক শক্তির এমন কিছু অগ্রগতির কথা প্রচার করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

তবে বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন যে, ইরানের এই দাবির পেছনের মূল ধারণাটি বেশ যৌক্তিক। ইরান বর্তমানে বিপুল অর্থ খরচ করে বড় রাডার স্টেশন তৈরির চেয়ে কম খরচে সহজে স্থানান্তরযোগ্য ও অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। এই ছোট ব্যবস্থাগুলো বড় রাডারের মতো সহজে ধরা পড়ে না. কিন্তু ড্রোন বা বিমানের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কিংসবেরি কলেজ লন্ডনের সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র লেকচারার মার্ক হিলবোর্ন আল জাজিরাকে বলেন, আরাশ-এ কামানগির সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য খুব কম থাকলেও এই হামলাটি ইরানের যুদ্ধকৌশলের একটি বৃহত্তর প্যাটার্নের সাথে মিলে যায়।

তিনি আরও বলেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নকশায় বেশ স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের মতো তারাও যুদ্ধের অর্থনৈতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। সম্ভা ও সাধারণ ব্যবস্থা দিয়ে তারা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

সূত্র: আল জাজিরা

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন