© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঢাবি নিয়ে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

শেয়ার করুন:
ঢাবি নিয়ে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৪৪ পিএম | ২৯ মে, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) নিয়ে দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্য সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শুক্রবার (২৯ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি বলেন, তার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝানো হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।সম্প্রতি ‘SameerScane’ নামের একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে দেয়া তার কিছু মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, এগুলো ছিল সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত, যা কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়।তিনি দাবি করেন, আমি মূলত বলতে চেয়েছি যে, সময় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার। আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করা ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা ছিল।

ফেসবুক পোস্টে তিনি দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নিয়েও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো, গত সতেরো বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, একাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে, এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্লেজারিজমের মতো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। আমি এসব প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করি এবং বিশ্বাস করি যে এগুলোর কোনো স্থান একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা উচিত নয়।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, পডকাস্টের আলোচনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন। এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা নীতিগত আলোচনা ছিল না। যদি এটি একটি আনুষ্ঠানিক একাডেমিক বা নীতিগত আলোচনার পরিসর হতো, তাহলে বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনাও অবশ্যই আরও কাঠামোবদ্ধ ও নির্দিষ্ট হতো।


পোস্টে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতি গঠনে অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতি গঠনে তার অবদানের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

আমি চাই এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার একটি স্বীকৃত কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করুক।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বর্তমানে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও দায়িত্বে রয়েছেন, তারাও এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও সমৃদ্ধ, আরও গবেষণানির্ভর এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে - এটাই আমার প্রত্যাশা।

সবশেষে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা এমন একটি একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই যেখানে সততা, মেধা, গবেষণার মান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা সর্বোচ্চ মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে; যেখানে প্লেজারিজম বা অন্য কোনো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার কোনো স্থান থাকবে না। সেটিই হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রতি প্রকৃত সম্মান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব। তারপরও আমার আংশিক বক্তব্যটি যেহেতু কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে, অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন, আমার অনেক প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মর্মাহত হয়েছেন সেজন্য আমার এই বক্তব্যটি আমি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং আশা করি এরপর এ বিষয়ে আর কোন বিতর্ক ও ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দেয়া মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষক সংগঠন সাদা দল।

শুক্রবার (২৯ মে) সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

এতে ববি হাজ্জাজকে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করা হয়। এমনকি কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেয় সাদা দল। এরপরই নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

টিজে/টিএ 


মন্তব্য করুন