© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইবোলা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র আতঙ্ক, বাড়ছে মৃত্যু

শেয়ার করুন:
ইবোলা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র আতঙ্ক, বাড়ছে মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২৩ পিএম | ৩০ মে, ২০২৬
আফ্রিকায় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। প্রতিষেধক না থাকায় বাড়ছে মৃত্যুও। কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশেই এ পর্যন্ত ২২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে ও আক্রান্তদের চিকিসায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আফ্রিকার কঙ্গোতে শুরু হওয়া ইবোলার বিরল ও মারাত্মক ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনটি বর্তমানে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, অঞ্চলটিতে এরইমধ্যে বেশ কয়েকজন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এই স্ট্রেনের সুনির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে।
 
এর মধ্যেই উগান্ডা কঙ্গোর সাথে তাদের সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিলেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে একে অনর্থক বলে আখ্যা দিয়েছে।
 
এদিকে, মহামারি কবলিত এলাকা থেকে আক্রান্ত বা সংক্রমিত মার্কিন নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য কেনিয়াতে ৫০ শয্যার একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলার পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু কেনিয়ার উচ্চ আদালত মার্কিন অর্থায়নে নির্মিতব্য এই ইবোলা আইসোলেশন সেন্টারের কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। 
 
কেনিয়ার মানবাধিকার সংস্থা ‘কাতিবা ইনস্টিটিউট’ এবং চিকিৎসকদের বৃহত্তম ইউনিয়ন ‘কেএমপিডিইউ’ সরকারের এই গোপন চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে একে দেশের বায়োসিকিউরিটির জন্য বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। চিকিৎসকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক হলে কেনিয়ার জন্যও বিপজ্জনক।
 
সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘ তিন দশকের সহিংসতায় জর্জরিত কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলার প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস নিজে উপস্থিত হয়ে আক্রান্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং টিকাদান ও চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সব যুদ্ধরত পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
 
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কঠোর চিকিৎসাবিধি ও দাফন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভের কারণে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে হামলার ঘটনাও ঘটছে।
 
চলমান এই মানবিক সংকটে কঙ্গোর রেড ক্রস সোসাইটি, আইএফআরসি এবং আইসিআরসি’র সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবকদের সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন সম্পন্ন করছেন। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরগুলোতে ইবোলার লক্ষণ, প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রিপোর্ট করার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন