© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপার দামে বড় উত্থান

শেয়ার করুন:
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপার দামে বড় উত্থান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২৯ পিএম | ০২ জুন, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ইল্ড বা সরকারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসায় উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা কিছুটা হলেও কেটেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২ জুন) স্পট গোল্ডের তাৎক্ষণিক বাজার দর ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ৭২ ডলারে। একই সঙ্গে আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের (সোনার আগাম চুক্তি) দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকার কথা জানানোর পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানির দাম কমলে তা মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ দূর করে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়ানোর প্রবণতা কমিয়ে দেয়।সাধারণত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনাকে বেছে নেওয়া হয়। তবে উচ্চ সুদের হারের বাজারে সোনা তার আকর্ষণ হারায়, কারণ এটি থেকে কোনো নিয়মিত মুনাফা বা সুদ আসে না।

স্যাক্সো ব্যাংকের প্রধান বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস এবং এর সূত্র ধরে সুদের হার, বন্ডের মুনাফা ও ডলারের ওপর অপরিশোধিত তেলের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। আর সে কারণেই সোনা ক্রমাগত তেলের বাজারের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করছে।

তিনি আরো বলেন, সোনা এখনো স্বল্পমেয়াদি মন্দাভাবের মধ্যে রয়েছে। বাজারে আবার নতুন করে বিনিয়োগকারীদের সুদিন ফেরাতে এর দাম ৪ হাজার ৬৩০ ডলারের কোটা পার হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ট্রেজারি নোটের মুনাফা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এর ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ ব্যয় কিছুটা কমেছে।

সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে।

সোমবার (১ জুন) লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও শান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার কতটা শক্তিশালী রয়েছে, তা মূল্যায়ন করতে বিনিয়োগকারীরা এখন আগামী শুক্রবার প্রকাশিতব্য মে মাসের ‘নন-ফার্ম পে-রোল’ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যা বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান এএনজে এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার ইতিবাচক থাকবে। কারণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি, অবনতিশীল ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং শেয়ারবাজারের মন্দাভাবের কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার ওপর মানুষের ভরসা বজায় থাকবে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। বিশ্ববাজারে রুপার দাম ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৬১ দশমিক ৯০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৭৮ দশমিক ২৫ ডলার হয়েছে।

দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন