শহীদ জিয়ার সিদ্ধান্তেই ব্যান্ড সংগীতে বিপ্লব ঘটেছে, দাবি আসিফের
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৪ পিএম | ১৬ জুন, ২০২৬
দেশে বিনোদন, সংস্কৃতি চর্চা এবং সংগীতের বিকাশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নানা বিষয় তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। সেখানে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশের ব্যান্ড সংগীতের বিকাশে তার ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
আজ (১৬ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আসিফ আকবর লিখেছেন, জনবহুল বাংলাদেশে বিনোদনকে ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। তার মতে, দেশে মানুষের বিনোদনের যথেষ্ট সংকট রয়েছে এবং শিশুদের মানসিক বিকাশে বিনোদনের বিকল্প নেই।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, বিনোদনের অভাব মানুষের মধ্যে হিংস্রতা, জিঘাংসা ও হতাশার জন্ম দেয়। অন্যদিকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মননশীলতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন এই সংগীতশিল্পী। আসিফের ভাষ্য, ১৯৭৯-৮০ সালে চট্টগ্রামের সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে বৈঠকে জিয়াউর রহমান দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্টস চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
তিনি লেখেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৭৯/৮০ সালে চট্টগ্রামের মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে মিটিং করেন। সেখানে উপস্থিত অনেকেই এখন দেশবরেণ্য তারকা। তিনি দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন ইন্সট্রুমেন্টসের চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন এবং আমদানি কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেন। যে কারণে ৯০-এর দশকে ব্যান্ড সংগীতে বিপ্লব ঘটে যায়।’
আসিফ আকবর আরও উল্লেখ করেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্রের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করায় বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তার মতে, এআই মিউজিকের এই সময়ে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র চর্চা দেশের সংগীতের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।
স্ট্যাটাসে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রসঙ্গও টানেন এই শিল্পী। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের মধ্যে ১৩টি মুসলিম দেশ রয়েছে। বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে সংগীত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই পশ্চাৎপদতার দিকে না গিয়ে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাংস্কৃতিক বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সবশেষে তিনি শিশুদের জন্য বিনোদনকে মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে দেশজুড়ে পরিকল্পিত সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরির আহ্বান জানান। পাশাপাশি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সারা দেশে শক্তিশালী ও টেকসই সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা করবে।
আসিফ আকবরের এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বিনোদন ও সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন।
এসএন