© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনায় রাজি ইরান ও ওমান

শেয়ার করুন:
হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনায় রাজি ইরান ও ওমান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০৭ পিএম | ২৩ জুন, ২০২৬
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণে একটি যৌথ কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে ইরান ও ওমান। এই কমিটির মাধ্যমে প্রণালিটিতে নৌ-চলাচল ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট সেবা এবং এর জন্য প্রযোজ্য ফি বা শুল্ক নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সফরকালে দুই দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নকাঠিত এই যৌথ কমিটির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও পরামর্শ অব্যাহত রাখা হবে। ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক এবং ওমানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদির সাথে ইরানি প্রতিনিধি দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই সমঝোতা চুক্তি সই হয়।

যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী এই কমিটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে হরমুজ প্রণালিতে ভবিষ্যৎ নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সামুদ্রিক ট্রাফিকের সাথে জড়িত বিভিন্ন পরিষেবা এবং সেই পরিষেবার বিপরীতে ফি আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এছাড়া, এই কৌশলগত জলপথের সুরক্ষায় অঞ্চলটির অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথেও আলোচনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির দুই প্রধান উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান ও ওমান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। তবে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত যেকোনো ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অবশ্যই এই দুই উপকুলীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং সার্বভৌম অধিকারের পূর্ণ সম্মান বজায় রাখতে হবে।

বৈঠকে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে ওমান। একই সাথে এই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছে মাস্কাট। ওমান ও ইরান উভয় পক্ষই সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।


এদিকে ওমান সফরকালে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি আর কখনোই যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ইরান এই প্রণালিটি প্রশাসন বা পরিচালনা করবে।


উল্লেখ্য, গত রবিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে যে. তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিবিড় আলোচনার পর এই সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটাল ও দূরবর্তী উপায়ে (ডিজিটালি) এই চুক্তিতে সই করেন।


পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত রবিবার সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইরানের পক্ষে স্পিকার গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যাব্ন্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার অংশ নেন।


মধ্যস্থতাকারীদের সূত্রে জানা যায়, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই দেশ একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে, যা দ্রুতই কারিগরি আলোচনার পথ সুগম করবে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে একটি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চ্যানেলও চালু করা হয়েছে।


সূত্র: প্রেস টিভি

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন