© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্রযুক্তির মহাযুদ্ধে নতুন মোড়যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে বিশ্বে সুপারকম্পিউটার তালিকার এখন শীর্ষে চীন

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে বিশ্বে সুপারকম্পিউটার তালিকার এখন শীর্ষে  চীন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২২ পিএম | ২৪ জুন, ২০২৬
বিশ্ব প্রযুক্তির নেতৃত্ব নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই লড়াইয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে বেইজিং।

বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের মর্যাদাপূর্ণ ‘টপ৫০০’ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে চীনের নতুন সুপারকম্পিউটার ‘লাইনশাইন’।

জার্মানির হামবুর্গে প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, চীনের শেনঝেনে অবস্থিত ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের এই সিস্টেম প্রতি সেকেন্ডে ২.১৯৮ এক্সাফ্লপস গতিতে কাজ করতে সক্ষম। সহজ ভাষায় বললে, এটি প্রতি সেকেন্ডে ২ কুইন্টিলিয়নেরও বেশি হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করতে পারে।

এতে পিছিয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘এল ক্যাপিতান’, যা এতদিন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের আসন ধরে রেখেছিল। নতুন হিসাব অনুযায়ী, চীনের লাইনশাইন প্রায় ২০ শতাংশ বেশি শক্তিশালী।

২০১৭ সালে ‘সানওয়ে তাইহুলাইট’-এর পর এবারই প্রথম কোনো চীনা সুপারকম্পিউটার আবারও বিশ্বের এক নম্বর অবস্থানে উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

টপ৫০০ তালিকার অন্যতম আয়োজক ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী জ্যাক ডংগারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ হয়তো চীনের কিছু অগ্রগতি ধীর করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে দেশটিকে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরিতে আরও বেশি উৎসাহিত করেছে।

আরও একটি বিষয় প্রযুক্তি বিশ্বকে অবাক করেছে। সাধারণত আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালাতে শক্তিশালী জিপিইউ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু লাইনশাইন পুরোপুরি সিপিইউভিত্তিক ডিজাইনে তৈরি হয়েও ২ এক্সাফ্লপসের বেশি পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা একটি বিরল অর্জন।

নতুন তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রন্টিয়ার, চতুর্থ স্থানে অরোরা এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে জার্মানির জুপিটার সুপারকম্পিউটার।

এদিকে যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ডও শীর্ষ ২০-এর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই র‍্যাঙ্কিংই প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের একমাত্র মানদণ্ড নয়। এআই, জ্বালানি দক্ষতা, সফটওয়্যারের মান, গবেষণা সক্ষমতা ও বাস্তব ব্যবহার—সবকিছু মিলিয়েই ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।

তবুও একটি বিষয় এখন স্পষ্ট—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সুপারকম্পিউটিংয়ের দৌড়ে চীন আর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবধান আগের মতো নেই। বরং প্রযুক্তি দুনিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আর এই পরিবর্তন আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্ব প্রযুক্তির নতুন মানচিত্র তৈরি করতে পারে।

টিএ/

মন্তব্য করুন