© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

শেয়ার করুন:
হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ছবি: সংগৃহীত

শাহাবুদ্দিন শুভ সঞ্চালক ও সিইও , ডক্টরস এন মেডিসিন
০১:১৭ পিএম | ২৬ জুন, ২০২৬
হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ, ঝুঁকি ও করণীয় নিয়ে কথা বলেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মো. খালেদ মহসিন
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: শাহাবুদ্দিন শুভ, সঞ্চালক ও সিইও, ডক্টরস এন মেডিসিন

প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) প্রাথমিক লক্ষণ কী? একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবেন যে এটি হার্টের সমস্যা?
প্রফেসর ডা. মো. খালেদ মহসিন: হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) উপসর্গ সব রোগীর ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। অনেক সময় রোগী স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন যে তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা হচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব করা। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও থাকতে পারে।

প্রশ্ন: কারা হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) সাধারণ লক্ষণ অনুভব নাও করতে পারেন?
প্রফেসর ডা. মো. খালেদ মহসিন: দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস (Diabetes)-এ আক্রান্ত রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অনেক ক্ষেত্রে নারীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) প্রচলিত লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে। কারণ, তাদের হৃদযন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে সংকেত পৌঁছানোর স্নায়বিক অনুভূতি তুলনামূলক দুর্বল হয়ে যায়। ফলে তারা বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব না করে অন্য ধরনের অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।

প্রশ্ন: অনেকেই বুকের ব্যথাকে গ্যাসের সমস্যা মনে করেন। এটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
প্রফেসর ডা. মো. খালেদ মহসিন: এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক রোগী হার্টের সমস্যাকে গ্যাস্ট্রিক (Gastric) বা হজমের সমস্যা ভেবে নিজে থেকেই অ্যান্টাসিড (Antacid) বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট করেন। এতে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয় এবং হার্টের পেশির স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) সন্দেহ হলে রোগীর করণীয় কী?
প্রফেসর ডা. মো. খালেদ মহসিন : সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় নষ্ট না করা। হৃদরোগের চিকিৎসায় প্রতিটি মিনিট মূল্যবান। হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) সময় যত বেশি পার হবে, হৃদপেশির ক্ষতিও তত বাড়বে। তাই বুকে ব্যথা বা হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে।
বর্তমান সময়ে শহরগুলোতে যানজট একটি বড় সমস্যা। তাই দূরের কোনো বড় হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা না করে আগে কাছের হাসপাতালে গিয়ে জরুরি চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।



প্রশ্ন: বুকের ব্যথা কি সব সময় হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) কারণে হয়?
প্রফেসর ডা. মো. খালেদ মহসিন: না। বুকের ব্যথার আরও কিছু জীবনঝুঁকিপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অ্যাওর্টিক ডিসেকশন (Aortic Dissection), যেখানে শরীরের প্রধান রক্তনালি অ্যাওর্টা (Aorta)-এর দেয়াল ছিঁড়ে যায়। আরেকটি হলো পালমোনারি এম্বোলিজম (Pulmonary Embolism), যেখানে ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ দুটি অবস্থাতেই দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
এ ছাড়া ফুসফুস কিংবা হজমতন্ত্রের কিছু সমস্যার কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। তবে বুকে ব্যথা হলে কখনোই ধরে নেওয়া উচিত নয় যে এটি শুধু গ্যাসের সমস্যা। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।

প্রশ্ন: পাঠকদের জন্য আপনার শেষ পরামর্শ কী?
প্রফেসর ডা. মো. খালেদ মহসিন : বুকে ব্যথা, চাপ অনুভব, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম অথবা হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) সন্দেহজনক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না। দ্রুত হাসপাতালে যান। মনে রাখবেন, হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) চিকিৎসায় 'সময়ই জীবন (Time is Muscle)'। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, তত বেশি হৃদপেশি রক্ষা করা সম্ভব হবে।

উত্তর দিয়েছেন
প্রফেসর ডা. মো. খালেদ মহসিন
এমবিবিএস গোল্ড মেডেলিস্ট, ডিএমসি 
এমআরসিপি 
এমডি , এনআইসিভিডি 
এমএসসি ইন কার্ডিওলজি, আয়ারল্যান্ড 
সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর 
ডিপার্টমেন্ট অব কার্ডিওলজি, বিএসএইচ 

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন
শাহাবুদ্দিন শুভ
সঞ্চালক ও সিইও , ডক্টরস এন মেডিসিন (Doctors N Medicine)

মন্তব্য করুন