ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৯ এএম | ০১ জুলাই, ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যখন ক্লাইবার মোরান নামে পরিচিত শিশুটিকে লা গুয়াইরা রাজ্যের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয় তখন উদ্ধারকারীরা উল্লাস প্রকাশ করছেন।
শিশুটির উদ্ধারের ঘটনাকে ডেলসি রদ্রিগেজ আশার একটি মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, জরুরি ভিত্তিতে কয়েক দশক হাজার মানুষের খাদ্য ও আশ্রয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহের ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। এতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক দশক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
নাসার স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে সম্ভবত ৫৮,৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা পুরোটা ধ্বংস হয়ে গেছে।
জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ক্লাইবারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, রাজধানী কারাকাসে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত পাওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকে প্রথম তিন দিনের মধ্যেই।
অথচ ভূমিকম্প হওয়ার ছয়দিন শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ফলে এই উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছে।
লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সেখানে বহু স্থানীয় বাসিন্দা নিজেরাই উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় খাদ্যসংকট ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
এছাড়াও মৌলিক সেবার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ইউএনএইচসিআর তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকায় কমিউনিটিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।’
লা গুয়াইরার ১৮ বছর বয়সী বিক্রেতা দানিয়েলা আরমাস। তিনি ভূমিকম্পের সময় মোটরবাইক থেকে পড়ে আহত হয়েছিলেন।
দানিয়েলা আরমাস এএফপিকে বলেন, ‘কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে, কিন্তু কখনও কখনও খাবারের জন্য মানুষ প্রায় একে অপরকে মেরে ফেলতে যায়... এটা যেন মোরগ লড়াই।’
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের জন্য সুরক্ষা, জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং অস্থায়ী আশ্রয় সহায়তা বাড়াতে তাদের প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ‘চরম চাপের’ মধ্যে রয়েছে।
ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন,‘টিকাদানের হার নিম্ন থাকায় এখন হাম ও ডিফথেরিয়ার মতো টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়েছে।’
হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ‘শিশু ক্লাইবারের উদ্ধার প্রমাণ করে যে এখনও জীবিত মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আশা রয়েছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘লা গুয়াইরা ও অন্যান্য রাজ্যে ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ আরও কয়েক ডজন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জীবিতদের খোঁজে অনুসন্ধান চালিয়েছে।
দেশটিতে কিছু আন্তর্জাতিক সহায়তাও পৌঁছাতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানান, মঙ্গলবার ৪৭ টন মানবিক সহায়তাসামগ্রী এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কিট, নিরাপদ প্রসব, নবজাতকের পরিচর্যা এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে।
এদিকে এখন পর্যন্ত যেসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলোর দাফন শুরু করেছেন ভেনেজুয়েলার মানুষ। আরও অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছে, যারা মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লা গুয়াইরার বন্দরে স্থাপিত অস্থায়ী মর্গে উইলকার মোলাল্লা এএফপিকে জানান, তিনি তার বোন, তার সন্তানদের এবং তার ভাইয়ের সন্তানদের মরদেহ শনাক্ত করার অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারে ১১ জন ছিল। আমরা মাত্র দুজন বেঁচে আছি, কারণ আমরা তখন কাজে ছিলাম।’
এফআর/এসএন