জ্বালানি ঘাটতি মোকাবেলায় ভারত থেকে পেট্রল কিনছে রাশিয়া
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৫ এএম | ০২ জুলাই, ২০২৬
ইউক্রেনের হামলায় তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশে তৈরি হওয়া জ্বালানির ঘাটতি মোকাবেলায় ভারত থেকে সমুদ্রপথে পেট্রল আমদানি শুরু করেছে রাশিয়া। বুধবার শিল্প খাতের দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে ইতোমধ্যে পেট্রলবাহী ট্যাংকার পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিমাসে বড় পরিমাণে পেট্রল আমদানির পরিকল্পনাও করছে। ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রলের সরবরাহ কমে গেছে।
রাশিয়ার ১১টি সময় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় নির্দিষ্ট পরিমাণে পেট্রল বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রলের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এ পরিস্থিতিতে রাশিয়া বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার ক্রেমলিন জানায়, গ্রহণযোগ্য দামে পেট্রল আমদানির জন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং ভারতের তেল মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
শিল্প খাতের একটি সূত্র জানায়, ভারত থেকে অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রল রাশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। আরেকটি সূত্রের দাবি, ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টন করে পেট্রল নিয়ে দুটি ট্যাংকার রাশিয়ার পথে রয়েছে।
এদিকে তৃতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া প্রতিমাসে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৪ লাখ টন পেট্রল আমদানির পরিকল্পনা করেছে। এই তালিকায় রয়েছে প্রতিবেশী বেলারুশও। দেশটি ইতোমধ্যে রাশিয়ায় নিয়মিত জ্বালানি রপ্তানি করছে। গ্রীষ্মকালে রাশিয়ায় জ্বালানির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় প্রতিদিন অন্তত ১ লাখ ১০ হাজার টন পেট্রলের চাহিদা তৈরি হয়। ফলে ঘাটতি পূরণে আমদানির ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে দেশটি। তবে ভারতের কোন তেল শোধনাগার থেকে এই পেট্রল রাশিয়ায় সরবরাহ করা হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত রবিবার সরকারি মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং সংকট মোকাবেলার চেষ্টা চলছে। রয়টার্সের হিসাব ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুনের প্রথমার্ধে বেলারুশ থেকে রেলপথে রাশিয়ায় ৭০ হাজার টনের বেশি পেট্রল সরবরাহ করা হয়েছে। মে মাসের প্রথমার্ধের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেশি। জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় গত সপ্তাহে রাশিয়ার পার্লামেন্ট কর আইনে সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিতে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারত থেকে পেট্রোল আমদানির খরচ ও দামের ভিত্তিতে এই ভর্তুকির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে, এলএসইজি ও ক্লেপারের জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য উৎস থেকে সরবরাহে হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তার প্রভাব কমাতে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো বেশি পরিমাণে রুশ তেল কিনেছে। ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে রাশিয়া থেকে। মে মাসে এই হার ছিল ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত জুন মাসে রাশিয়া থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। ক্লেপার ও এলএসইজির প্রাথমিক তথ্যে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আরআই/টিকে