আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ঘিরে আটলান্টায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪০ পিএম | ১৩ জুলাই, ২০২৬
দীর্ঘ দুই যুগ পর বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মেগা মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ৭৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই মহারণকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কা।
মাঠের ফুটবলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল থেকে শুরু করে মাঠের বাইরের ঐতিহাসিক ফকল্যান্ড যুদ্ধ— দু'দেশের এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও ফুটবল বৈরিতা সম্পর্কে সম্যক অবহিত থাকায় পুরো আটলান্টা শহরজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে আটলান্টা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট।
এই উত্তেজনার আরও বেশি হওয়ার কারণ ফিফার টিকিট বণ্টন নীতি। সাধারণ ক্যাটাগরিতে বিক্রি হওয়া টিকিটগুলোর কারণে দুই প্রতিপক্ষ দেশের হাজার হাজার সমর্থক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে একে অপরের পাশাপাশি বসার সুযোগ পাচ্ছেন, যেখানে স্ব-স্ব ফুটবল ফেডারেশনের নির্ধারিত গ্যালারি ব্যতিরেকে কোনো সুনির্দিষ্ট পৃথকীকরণ নেই।

সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আসা দুদেশের অনুরাগী ও প্রবাসী সমর্থকদের ৫০-৫০ উপস্থিতিতে পুরো মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম এক উত্তপ্ত বারুদাগারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আটলান্টা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। সম্ভাব্য যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, দাঙ্গা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্টেডিয়াম, বিনোদন এলাকা এবং জনবহুল কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আধুনিক প্রযুক্তি মোতায়েন করে পুরো আটলান্টাকে এক কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
লড়াইয়ের আগে মাঠের বাইরের বিতর্ক বা হাইপ উসকে দিতে সাফ মানা করে স্কালোনি খুব সাধারণ ও শান্ত ভাষায় বলেন, আমার বার্তা খুবই পরিষ্কার—এটি স্রেফ একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়। আমরা চমৎকার একজন কোচের অধীনে থাকা ভীষণ কঠিন এক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। তবে দিনশেষে এটি একটি ফুটবল ম্যাচ এবং আমাদের ভাবনায় কেবল সেটুকুই থাকবে।
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ড্রেসিংরুমে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে গান গাওয়ার ঘটনা আলোচনার সৃষ্টি করলেও, বিষয়টিকে মাঠের বাইরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল। ক্যানসাস সিটিতে ম্যাচ শেষে ডি পল বলেন, এই ম্যাচটি ডিয়েগোর ৮৬-র সেই কীর্তি এবং আমাদের গানগুলোর জন্য ফকল্যান্ড যুদ্ধের বীরদের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তবে আমাদের বুঝতে হবে, ফকল্যান্ড বা মালভিনাস নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্র এগুলো নয়; মাঠে আমাদের মূল মনোযোগ কেবল ফুটবলেই রাখা উচিত।
এমআই/টিএ