অনুশীলন ম্যাচ না থাকায় জিম্বাবুয়েতে ভুগেছে বাংলাদেশ: আশরাফুল
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৪২ পিএম | ২২ জুলাই, ২০২৬
জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের অন্যতম কারণ ছিল প্রস্তুতি ম্যাচ না থাকা, এমনটাই মনে করেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। তার মতে, মূল সিরিজ শুরুর আগে অনুশীলন ম্যাচ খেলতে পারলে স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া সহজ হতো এবং ফলাফলও ভিন্ন হতে পারত।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ আর মাইটি অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজে হারানোর পর জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স শুধু হতাশারই ছিল না, ছিল লজ্জাজনকও। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর প্রথম দুই ওয়ানডে হেরে সিরিজ খুইয়েছিল লাল সবুজরা। শেষ ম্যাচটি জিতে কোনোরকম হোয়াইটওয়াশ হওয়া থেকে বেঁচেছিল। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজটাও হার দিয়ে শুরু করেছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পরের দুই ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে দেশে ফেরে টাইগাররা।
বুধবার (২২ জুলাই) দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ব্যাটিং কোচ আশরাফুল। পুরো সফরে সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ ছিল ব্যাটিং শিবির। সফরে ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন,‘আগে মূল সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ হতো। এখন সেই সুযোগ নেই। সফরে গিয়েই সরাসরি সিরিজ খেলতে হয়, ফলে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সময় পাওয়া যায় না। টেস্ট ও ওয়ানডে দল আগেভাগে গেলেও কোনো অনুশীলন ম্যাচ খেলতে পারেনি। যদি খেলতে পারতাম, তাহলে ফল আমাদের পক্ষেও আসতে পারত।’

জিম্বাবুয়ে সফরের হতাশা থাকলেও আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে আশাবাদী আশরাফুল। বাংলাদেশ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ডারউইনে (১৩-১৭ আগস্ট) ও ম্যাকেতে (২২-২৬ আগস্ট)।
সফরের আগে বাংলাদেশ ১০ থেকে ১২ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবে এবং একটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। এটিকেই বড় সুবিধা হিসেবে দেখছেন ব্যাটিং কোচ।
তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় অবশ্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো আমরা আগেভাগে সেখানে যাব এবং একটি তিন দিনের অনুশীলন ম্যাচ খেলতে পারব। সবাই ফিট থাকলে ভালো কিছু করার আশা করছি।’
এদিকে চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আট ম্যাচে সাত জয় নিয়ে ৮৭.৫০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পূর্ণ শক্তির দল ঘোষণা করে তারা এই সিরিজের গুরুত্বও স্পষ্ট করেছে।
জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা হলেও আশরাফুল সেটিকে বড় করে দেখতে নারাজ। তার মতে, গত সাত মাসে ব্যাটাররা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছে, তাই একটি খারাপ সিরিজ দিয়ে পুরো দলের মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, ‘গত সাত মাসে আমাদের ব্যাটাররা খুব ভালো খেলেছে। একটি সিরিজ খারাপ যেতেই পারে। এই টেস্টের আগে চারটি টেস্টে তারা দারুণ ব্যাটিং করেছে।’
ওয়ানডে সিরিজে ইনজুরির প্রভাবও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমান দ্বিতীয় ম্যাচের পর খেলতে না পারায় দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন আশরাফুল।
সফরে কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ। তার ভাষ্য, জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে প্রথমবার খেলেও তারা দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে। বিশেষ প্রশংসা করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের। পুরো সফরে ছয়টি সাদা বলের ম্যাচে চারটি অর্ধশতক করেন তিনি, যা আশরাফুলের মতে দলের অন্যতম বড় ইতিবাচক দিক।
এছাড়া তাওহীদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন ও ইয়াসির আলী রাব্বির পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি। বিশেষ করে প্রত্যাবর্তনের সিরিজে ইয়াসিরের ব্যাটিংকে প্রশংসা করেন আশরাফুল।
তিনি বলেন,‘হারলে অবশ্যই খারাপ লাগে। কিন্তু ভিন্ন কন্ডিশনে খেলে খেলোয়াড়রা মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সেই ইতিবাচক দিকগুলো সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই বলেও জানিয়েছেন আশরাফুল। তার মতে, বাংলাদেশ একেকটি সিরিজ ধরে এগোতে চায় এবং জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে অতিরিক্ত বাউন্সের উইকেটে খেলতে হবে। সেই দিক থেকে জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগবে। আমরা বিশ্বকাপ বাছাই নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই। প্রতিটি সিরিজ ধরে এগোচ্ছি। এই সিরিজের আগে দেশে টানা পাঁচটি সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। সামনে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ আছে। সেখানে নিজেদের সেরাটা খেলতে চাই।’
জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে ইতিবাচকভাবে সফর শেষ করেছে বাংলাদেশ। এখন সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই কঠিন অস্ট্রেলিয়া মিশনের প্রস্তুতি শুরু করবে টাইগাররা।
এমআর/টিএ