জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ফাঁড়ির পানির উৎসে বিষ মেশানোর অভিযোগ, অসুস্থ ৩ কনস্টেবল
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫১ পিএম | ২৬ জুলাই, ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর পুলিশ ফাঁড়ির পানির উৎসে বিষ বা অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। পানিতে অস্বাভাবিক ফেনা ও তীব্র দুর্গন্ধ শনাক্ত হওয়ার পর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশের তিন কনস্টেবল সাময়িকভাবে অসুস্থ হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।
রোববার (২৬ জুলাই) ভোরে পানির পাম্পের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যের নজরে বিষয়টি আসে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ায় ফাঁড়িতে অবস্থানরত র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ওই পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'আলীনগর ক্যাম্পে র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় ৩০০ সদস্য অবস্থান করেন। ক্যাম্পে ট্যাংকের মাধ্যমে সরবরাহ করা পানি ব্যবহার করা হয়।'
তিনি বলেন, 'ভোরে দায়িত্বে থাকা মোটর অপারেটর পানি সরবরাহ চালু করতে গিয়ে পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বাভাবিক আলামত দেখতে পান। পরে দেখা যায়, সবগুলো পানির ট্যাংকের অবস্থাই একই রকম। ঘটনাস্থলে একটি খালি বিষের বোতলও পাওয়া গেছে।'
পুলিশ সুপার বলেন, 'পানির নমুনা এবং খালি বোতলটি পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত এটি বিষ, কীটনাশক নাকি অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সরবরাহ লাইনের একটি সংযোগস্থল খুলে সেখানে কোনো পদার্থ ঢেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে।'
মাসুদ আলম জানান, 'পুলিশের তিন কনস্টেবল ওই পানিতে হাত-মুখ ধোয়ার পর সাময়িকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে পরে তাদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি।'
আলীনগর ফাঁড়ি পুলিশের তথ্যমতে, সকালে ফাঁড়িতে ব্যবহৃত পানিতে সাদা ফেনা ও দুর্গন্ধ দেখতে পান দায়িত্বরত সদস্যরা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে পানি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সীতাকুণ্ড থানা ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরীক্ষার জন্য পানির নমুনা সংগ্রহ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পানিতে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিষাক্ত বা ক্ষতিকর পদার্থ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে। এর আগে ওই এলাকায় র্যাব ক্যাম্পে হামলা, গুলিবর্ষণ এবং সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়াও ক্যাম্প স্থাপনের কয়েক দিনের মধ্যেই পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক ঘটনার পর নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
কেএন/এসএন