ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘ঠান্ডা খেয়ে চলে যেতে’ বলার পর প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের জরিমানা
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৭ এএম | ২৭ জুলাই, ২০২৬
গাজীপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে উপস্থিত না হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘ঠান্ডা খেয়ে চলে যেতে’ বলার পরও রেহাই পেলেন না ‘সরকার এগ্রোর’ মালিক। অনুমোদনহীন প্রাণী খাদ্য উৎপাদন, ভুয়া বিএসটিআই লোগো ব্যবহার ও প্রতারণামূলক পণ্য বাজারজাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার মাস্টার ভিলা নামের একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় এ অভিযান চালানো হয়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ আলী আদনান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্ত সরকার এগ্রোর মালিক আজাহার সরকার। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার চৌদার উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার সরকার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই প্রাণী খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন পেজে ভুয়া বিএসটিআই নম্বর ও লোগো ব্যবহার করে মাছ ও পশুখাদ্য বিক্রি করছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ পাওয়ার পর মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কর্মকর্তারা অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানের মালিককে মোবাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার জন্য জানানো হয়। তবে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ সময়ে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, ‘আপনি যদি আজকে ঠান্ডা খেয়ে চলে যেতেন, তবে পরবর্তীতে আমি আপনাদের অফিসে গিয়ে সাক্ষাৎ করতাম।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ আলী আদনান বলেন, অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া প্রাণী খাদ্য উৎপাদন, ভুয়া বিএসটিআই লোগো ব্যবহার ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার কারণে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন, বিএসটিআই আইন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একেএস/টিএ