নেতানিয়াহুকে ‘খুনি উন্মাদ’ বললেন মার্ক রাফালো
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫১ পিএম | ২৮ জুলাই, ২০২৬
গাজায় অব্যাহত হামলার তীব্র সমালোচনা করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘খুনি উন্মাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জনপ্রিয় হলিউড অভিনেতা মার্ক রাফালো। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চিফ প্রসিকিউটর পদচ্যুত হলেও গাজায় সংঘটিত নৃশংসতা ও যুদ্ধাপরাধের দায় থেকে নেতানিয়াহু মুক্ত হতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় হলিউডের এই জ্যেষ্ঠ অভিনেতা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইসরায়েলি শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
প্রকাশিত ওই বার্তায় মার্ক রাফালো লেখেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তুমি একজন খুনি উন্মাদ।’ ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে পদ থেকে সরানোর পেছনে লবিং বা প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে রাফালো বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়া মানেই যুদ্ধাপরাধের ঘটনাগুলো মুছে যাওয়া কিংবা নিজের অপরাধের বোঝা হালকা হওয়া নয়। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী কখনোই ইতিহাসের কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে লবিং করতে পারবেন না এবং ইতিহাস তাকে তার কৃতকর্মের জন্যই মনে রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের হাত থেকে পালাতে পারবেন না।
মূলত আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে পদচ্যুত করার সিদ্ধান্তকে নেতানিয়াহু স্বাগত জানানোর পরপরই হলিউড তারকার এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সামনে এলো। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এক ভোটাভুটিতে করিম খানকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যদিও শুরু থেকেই ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এই প্রসিকিউটর।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন করিম খান।
ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে জোরালো আওয়াজ তোলা হলিউডের অন্যতম সোচ্চার ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মার্ক রাফালো দীর্ঘদিন ধরেই গাজার চলমান পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ এবং ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে অভিহিত করে আসছেন। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও গাজা পরিস্থিতির ওপর তাদের প্রতিবেদনে একই ধরনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এসএ/টিএ