ভারতের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়া উচিত: জিএম কাদের
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৬ পিএম | ১৬ আগস্ট, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তাঁর মতে, ভারতের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা হলে দেশটি বিষয়টি সহজভাবে নেবে না।
তাঁর ভাষায়, আমার ধারণা প্রধানমন্ত্রীর যাওয়া উচিত। যদি যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত আমন্ত্রণটি গ্রহণ করা উচিত। কারণ ভবিষ্যতে ভারতের সমর্থন ছাড়া আমরা যত কথাই বলি না কেন, বাস্তবতা হলো ভারত আমাদের চারপাশে। প্রধানমন্ত্রীকে যারা ভারতে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, আমার মনে হয়, তারা তাকে সঠিকভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন না।
তিনি বলেন, ভারতের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত এবং রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আমি ভারতকে কিছুটা ভালোভাবে জানি। কাউকে আমন্ত্রণ জানানোর পর তিনি যদি সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন, ভারতীয়রা বিষয়টি সহজভাবে নেয় না।
তিনি আরও বলেন, ভারতীয়রা নিজেদের দেশ, দেশের মর্যাদা এবং জাতীয় সম্মানের ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেখানে দল-মতনির্বিশেষে ভারতীয়রা নিজেদের ভারতীয় হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, শুধু ভারতের মানুষই নয়, যারা আমেরিকা, ইউরোপ, কেনিয়া কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করেন, তারাও নিজেদের ভারতীয় হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন।
তিনি বলেন, সেই ভারতকে কেউ আমন্ত্রণ জানালে এবং পরে সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে বিষয়টি তারা খুব সহজভাবে গ্রহণ করবে না। এ নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তবে তিনি বলেন, আবার আমি মনে করি, তারা যেটিকে ভালো মনে করবেন, সেটিই করবেন।
তিনি আরও বলেন, তবে একটি বিষয় অনেকেই ভুল করেন। ভারত বাংলাদেশকে শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেখে এ ধারণা ঠিক নয়।
জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে দেখে, সেটি ভারতের জন্যও ভালো। তারা শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করে না; আরও কিছু বিষয় নিয়েও তারা চিন্তা করে।
তিনি বলেন, আমরা দরিদ্র এবং প্রধানত একটি মুসলিম দেশ এই দুটি বিষয় ভারতের জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাদের আশঙ্কা হলো, একটি দরিদ্র ও মুসলিমপ্রধান দেশে যদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়, তাহলে সেখানে জঙ্গিবাদ বা মিলিট্যান্সি বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে অনেকেই এমন আশঙ্কা করছেন।
সুতরাং বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং একটি জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কেএন/টিএ