© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গুলি চালিয়ে মগজ উড়িয়ে দেওয়া ‘আত্মরক্ষা’ হতে পারে না : প্রসিকিউটর তামিম

শেয়ার করুন:
গুলি চালিয়ে মগজ উড়িয়ে দেওয়া ‘আত্মরক্ষা’ হতে পারে না : প্রসিকিউটর তামিম

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:২৫ পিএম | ১৭ আগস্ট, ২০২৬
ইট-লাঠির জবাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের মগজ উড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই আত্মরক্ষা হতে পারে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

তামিম বলেন, স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, ‘আন্দোলন ঠেকাতে গিয়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হয়েছে। এ জন্য তারা প্রোপোর্শনেট ফোর্স বা আনুপাতিক বলপ্রয়োগ ব্যবহার করেছেন।’ কিন্তু আমরা দেখিয়েছি যে, আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল ইট-লাঠি। এর বিপরীতে, লেথাল ওয়েপন বা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালিয়ে মগজ উড়িয়ে দেওয়া কখনোই প্রোপোর্শনেট হতে পারে না। এটা কোনোভাবেই নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে করেননি তারা।

তিনি বলেন, শুধু ঘটনার স্থান না দেখে পুরো পরিস্থিতি দেখতে হবে। কারণ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নির্দেশ কীভাবে অধস্তনদের কাছে পৌঁছেছে, মধ্যবর্তী পর্যায়ের নেতারা তা কীভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করেছেন— অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ই বিবেচনায় নিতে হবে।

আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩-এর ২ ধারায় অপরাধের বিষয়ে বেশ কয়েকটি উপধারা রয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ উপধারায় হত্যার কথা বলা হয়েছে। আবার ‘জি’ ও ‘এইচ’-এ অপরাধে প্ররোচনা, চেষ্টা, সহায়তা ও অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার মতো বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ হত্যা যেমন একটি অপরাধ, তেমনি হত্যায় সহায়তা করা, নির্দেশ, উসকানি দেওয়া, সম্পৃক্ত থাকা বা ষড়যন্ত্র করাও পৃথক অপরাধ। আর এসব অপরাধের শাস্তিও সমান। মাঠপর্যায়ে যারা হত্যা করেছে, তারা হত্যার জন্য দায়ী। আর যিনি ঊর্ধ্বতন হিসেবে ‘মারো না কেন, পিটাও না কেন, এখন থেকে দেখামাত্র গুলি হবে, ছাত্রলীগই যথেষ্ট’— এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য বা নির্দেশ দিয়ে অধস্তনদের মাধ্যমে ওই অপরাধ সংঘটিত করিয়েছেন, তিনি উসকানি বা নির্দেশ দেওয়ার অপরাধে দায়ী। তবে আমাদের আইনে এসব অপরাধের শাস্তি সমান।

জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ নিয়ে ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ হতে তিনটি জিনিস থাকা লাগে। প্রথমত, একের অধিক ব্যক্তি এ অপরাধে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। যা চব্বিশের জুলাই-আগস্টে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সব অপরাধীরই একই রকম উদ্দেশ্য থাকে। আন্দোলন দমন করাই ছিল তাদের প্রধান কাজ। তৃতীয়ত, উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন, মাঠপর্যায়ে যদি অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে প্রত্যেকেই অপরাধী হবেন। তিনি বলেন, বসনিয়ার একটি গ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগসংক্রান্ত একটি মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে আমরা যুক্তি খণ্ডন করেছি।

টিকে/

মন্তব্য করুন