© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়াকে সতর্কবার্তা ব্রায়ান লারার

শেয়ার করুন:
ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়াকে সতর্কবার্তা ব্রায়ান লারার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৫৭ পিএম | ২০ আগস্ট, ২০২৬
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার নয় উইকেটের লজ্জাজনক হার দলটির বয়স্ক তারকাদের পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে অস্বস্তিকর কিছু প্রশ্ন সামনে এনেছে। আর এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রায়ান লারার চেয়ে ভালো অবস্থানে খুব কম মানুষই আছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই কিংবদন্তি নিজের দলের আধিপত্যের পতন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান দলেও তিনি সেই পতনের কিছু সতর্কসংকেত দেখতে পাচ্ছেন।

মারারায় ৯ উইকেটের এই জয় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং যেকোনো কন্ডিশনে অজিদের বিপক্ষে মাত্র দ্বিতীয় জয়। তাও আবার পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে যেখানে ছিলেন প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন। এই বোলিং ইউনিটের সম্মিলিত বয়সও এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।



উসমান খাজা ইতোমধ্যে অবসর নিয়েছেন। পাশাপাশি দলের আরও কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়ও ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। তাই লারা অস্ট্রেলিয়াকে এই পরিবর্তন খুব সতর্কতার সঙ্গে সামলানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, একসঙ্গে বড় ধরনের পরিবর্তনের বদলে ধাপে ধাপে দল পুনর্গঠন করা উচিত।

কোড স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লারা পরিষ্কার করে বলেছেন, খেলোয়াড়দের অবসর নেওয়াটাই সমস্যা নয়; সমস্যা হলো একসঙ্গে অনেকের অবসর নেওয়া। তিনি ধাপে ধাপে দল পুনর্গঠনের পক্ষে।

লারা বলেন, 'অবসর নেওয়ার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে এগোনো অনেক ভালো।'

তার উদ্বেগের কারণ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পছন্দের একাদশের বাইরের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স। তিনি বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ খেলোয়াড়দের দেখলে আমি অনেক ব্যাটসম্যানকে দেখি, যাদের গড় ৩০-এর ঘরে। দলের চার-পাঁচজন খেলোয়াড় যদি একসঙ্গে চলে যায়, তখন পরিস্থিতি সামলানো খুব কঠিন হবে।'

নিজের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার কথাও টেনে আনেন লারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আধিপত্য হঠাৎ কীভাবে ভেঙে পড়েছিল, সেই উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, '১৯৯২ সালের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছিল। গর্ডন গ্রিনিজ, ভিভ রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল ও জেফ ডুজনের মতো খেলোয়াড়রা অল্প সময়ের ব্যবধানে চলে গিয়েছিলেন।'

এই খেলোয়াড়েরা একসঙ্গে বিদায় নেওয়ার পর দল কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তা লারা নিজে দেখেছেন। দীর্ঘ সময় তিনিই ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের প্রধান ভরসা। তিনি আউট হওয়ার পর কার্ল হুপার, রিচি রিচার্ডসন ও জিমি অ্যাডামসদের মতো সতীর্থদের নিয়ে গড়া তুলনামূলক দুর্বল ব্যাটিং লাইনআপকে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা ১৯৯৫ সালে সহজেই ধসিয়ে দিয়েছিল।
 
লারা যে উদাহরণ দিয়েছেন, সেটির গুরুত্ব অনেক। কারণ তিনি নিজে সেই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গেছেন। ১৯৯১ সালে ইংল্যান্ড সফরের পর রিচার্ডস, গ্রিনিজ ও ডুজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন। একই সময়ের মধ্যে মার্শালের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও শেষ হয়ে যায়। মাত্র ২২ বছর বয়সে লারাকে কেন্দ্র করে তখন তড়িঘড়ি করে নতুন ব্যাটিং অর্ডার সাজাতে হয়েছিল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর কখনো আগের অবস্থানে ফিরতে পারেনি। সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে আশির দশকজুড়ে যারা কার্যত বিশ্ব ক্রিকেটের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি ছিল, সেই দল এরপর ধীরে ধীরে পতনের দিকে যায়। সেই পতন তিন দশক ধরে চলেছে। লারাও স্বীকার করেছেন, তার পুরো ক্যারিয়ারই ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অবনতির সময়ের মধ্যে কেটেছে।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিস্থিতির অবশ্য সরাসরি মিল নেই। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার হাতে রয়েছে অনেক বেশি সম্পদ ও শক্তিশালী কাঠামো। তবু লারার মূল বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ।

কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজলউড, লায়ন ও স্টিভ স্মিথ যদি অল্প সময়ের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন, তাহলে ৩০-এর ঘরে ব্যাটিং গড় থাকা রিজার্ভ খেলোয়াড়দের দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করা সহজ হবে না। কোনো ব্যবস্থাই এত অল্প সময়ে এত বড় ক্ষতি সহজে সামাল দিতে পারবে না।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন