© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রোহিঙ্গা সংকটকে ভুলে যাওয়া সংকটে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না : হুমায়ুন কবির

শেয়ার করুন:
রোহিঙ্গা সংকটকে ভুলে যাওয়া সংকটে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না : হুমায়ুন কবির

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০১ পিএম | ২২ আগস্ট, ২০২৬
রোহিঙ্গা সংকটকে কোনোভাবেই ‘ভুলে যাওয়া সংকটে’ পরিণত হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটি (আইআরসি) আয়োজিত ‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৬ : অ্যা কনভেনিং অব পার্টনারশিপ, অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যান্ড কমিটমেন্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ব্যাপক বাস্তুচ্যুত হওয়ার নবম বার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর অবদান ও অংশীদারির স্বীকৃতি জানানো হয়।

হুমায়ুন কবির বলেন, দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটের বোঝা বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

তাই তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানোসহ রোহিঙ্গাদের জন্য অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথও সম্প্রসারণ করতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে। সরকার শুধু মানবিক সহায়তার মাধ্যমে সংকটটি পরিচালনা করতে চায় না; বরং এর একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে আইআরসির এশিয়া অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক হাসিনা রহমান বলেন, ৯ বছর ধরে চলা সংকটকে আগের মতো পরিচালনা করে দশম বা পঞ্চদশ বছরে যাওয়া সম্ভব নয়।

অর্থায়ন কমে যাচ্ছে এবং বিশ্বের মনোযোগও অন্য সংকটের দিকে সরে যাচ্ছে। তাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এখনই যৌথভাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হবে।

রোহিঙ্গা মানবাধিকারকর্মী লাকি করিম বলেন, প্রত্যাবাসন শুরুর আগে রাখাইনে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের মানসম্মত শিক্ষা ও টেকসই জীবিকার সুযোগ দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকটের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সরকারের প্রতিনিধি, দাতা সংস্থা, মানবিক সহায়তা খাত, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।

আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সেবায় তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন