পুলিশে দুর্নীতি বরদাস্ত নয়জাতীয় সংসদে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১৪ পিএম | ২৭ আগস্ট, ২০২৬
পুলিশ বিভাগে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অপকর্মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শুধু বিভাগীয় শাস্তি বা বরখাস্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা হবে না, বরং সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। মন্ত্রীর লিখিত জবাবটি সংসদে টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে পুলিশের সরাসরি আর্থিক লেনদেন বন্ধ করতে পুলিশি সেবাকে ব্যাপকভাবে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। বর্তমানে ট্রাফিক জরিমানা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং সাধারণ ডায়েরিসহ (জিডি) বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ভয় বা সংকোচ ছাড়া অভিযোগ করতে পারেন, সে জন্য চালু করা হয়েছে গোপন ‘কমপ্লেইন সেল’। এর মাধ্যমে যে কেউ নিজের পরিচয় প্রকাশ না করেও অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখতে পুলিশের বিশেষ ইউনিটগুলোর তদারকি ও কার্যক্রম বহুলাংশে জোরদার করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহার চিরতরে বন্ধ করতে ফৌজদারি কার্যবিধির বিভিন্ন ধারা সংশোধনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি ঔপনিবেশিক আমলের পুরোনো আইনগুলো যুগোপযোগী ও সংস্কার করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে সরকার। এছাড়া নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে মৌলিক প্রশিক্ষণের সঙ্গে নৈতিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
এমআর/টিএ