আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৪ পিএম | ৩১ আগস্ট, ২০২৬
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক পৃথক দুই হত্যাচেষ্টার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত বনানী এলাকায় সোহাগ নামে এক কিশোর হত্যাচেষ্টা মামলায় এবং আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত মিরপুরে মো. মুক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল সরকার ২৪ আগস্ট এবং মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক আজিজুল হক ২৫ আগস্ট শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন ৩১ আগস্ট। এদিন শুনানিকালে শাহজাহান ওমরকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় শাহজাহান ওমরকে দেখে কয়েকজন ‘মীর জাফর’ ও ভুয়া, ভুয়া বলে ডাকতে থাকেন।
প্রথমে তাকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নেওয়া হয়। ওই আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন তাকে দেখে বলেন, মীর জাফর, মীর জাফর যায়। ভুয়া, ভুয়া। ওই আদালতে হাজিরা দিতে আসা শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদল নেতা মহসিন শেখ বলেন, তার জনপ্রিয়তা ছিল বিএনপির জন্য। সুযোগ বুঝে বিএনপি থেকে সরে গেছে।
মুক্তার হোসেন হত্যাচেষ্টার মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মিরপুর-১০ নম্বরে সুইমিং পুল ও ফায়ার সার্ভিসের সামনে রাস্তায় অবস্থান করেন মো. মুক্তার হোসেন। পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটে আহত হন তিনি। এরপর তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে পরে তিনি মামলা দায়ের করেন।
সোহাগ হত্যাচেষ্টার মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বনানী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন সোহাগ। দুপুর ২টার দিকে বুকে দুটি গুলি লাগে তার। তাকে উদ্ধার করে মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। পরে তাকে শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক অপারেশন করে একটি গুলি বের করেন। অপর গুলিটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অপারেশন করে আরেকটি গুলি বের করা হয়। ২১ জুলাই সোহাগের বাসায় গিয়ে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় সোহাগের বাবা বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন।
আরআই/টিএ