© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কেউ হয়রানির চেষ্টা করলে, তাকে নগ্ন করে রাস্তায় দাঁড় করাব: ঋতাভরী

শেয়ার করুন:
কেউ হয়রানির চেষ্টা করলে, তাকে নগ্ন করে রাস্তায় দাঁড় করাব: ঋতাভরী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৪০ পিএম | ৩১ আগস্ট, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের পরিচিত অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। কর্মক্ষেত্রে নারীদের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের আগস্টের শেষদিকে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নারীদের হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তিনি অন্য অভিনেত্রীদেরও ভয় কাটিয়ে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে মুখ খোলার আহ্বান জানান।

এরপর বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপও চান ঋতাভরী। তার ওই পোস্টের পর সেপ্টেম্বর মাসে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন অভিনেত্রী। বৈঠকে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেমা কমিটির আদলে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।


সম্প্রতি এনডিটিভিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে কেন এত বছর পর যৌন হয়রানি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন এবং তার করা অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী—তা জানিয়েছেন ঋতাভরী।



অভিনেত্রী বলেন, ‘আজ আমার জীবনে এমন একটা জায়গা তৈরি হয়েছে। কেউ যদি এখন আমার গায়ে হাত দেয় বা যৌন হয়রানির চেষ্টা করে, তবে তাদের মাঝ রাস্তায় নগ্ন করে দাঁড় করাব। আর জানিয়ে রাখি, পূর্ব ভারতের একজন অভিনেত্রী হিসেবে সমাজিক মাধ্যমে বেশি ফলোয়ার্স কিন্তু আমারই রয়েছে।’

এদিন ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল বলে জানান ঋতাভরী। তখন তিনি ছিলেন একেবারেই নতুন এবং নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু করি, তখন বিষয়টি এমন ছিল না। আমি খুবই ছোট ছিলাম, নিজের পথ খুঁজছিলাম। এসব ঘটনা যখন ঘটেছিল, তখন আমি ভীষণ ভয় পেতাম।’

ঋতাভরী জানান, বছরের পর বছর ধরে তিনি হয়রানির সঙ্গে সম্পর্কিত আপত্তিকর বার্তাগুলো পুষে রেখেছেন। তবে সামাজিক মাধ্যমকে তিনি কারও বিরুদ্ধে ‘বিচারের জায়গা’ হিসেবে ব্যবহার করতে চান না।

তার ভাষায়, ‘আমি এত বছর ধরে সেই আপত্তিকর বার্তাগুলো সংরক্ষণ করেছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কারও বিচার করার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। বরং আমি একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোতে চাই।’

নিজের করা আবেদনের বর্তমান অবস্থা নিয়েও কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তার দাবি, বর্তমান সরকারের কাছেও তিনি একই ধরনের আবেদন করেছেন, তবে এবার সেটি আরও আনুষ্ঠানিকভাবে করা হয়েছে।

ঋতাভরী বলেন, ‘আমি বর্তমান সরকারের কাছেও একই ধরনের আবেদন করেছি। এবার সেটি আরও আনুষ্ঠানিকভাবে করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো একান্ত বৈঠক হয়নি। বিষয়টি কোথায় যায়, সেটি দেখছি। আমি সবাইকে আপডেট জানাব।’

কেরালার হেমা কমিটির আদলে বাংলা চলচ্চিত্রশিল্পে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে একটি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন ঋতাভরী। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে নবান্নে ডেকে পাঠান।

ঋতাভরীর সঙ্গে বৈঠকের পর পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কমিটি হেমা কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কিছু নির্দেশিকা তৈরির পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়েও কাজ করার কথা ছিল।

প্রস্তাবিত পাঁচ সদস্যের কমিটির নেতৃত্বে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি থাকার কথা ছিল। পাশাপাশি পুলিশ, মনোবিজ্ঞানী ও আইনজীবীদেরও যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল।

ঋতাভরী সেই কমিটিতে চলচ্চিত্রশিল্পের কাউকে না রাখার অনুরোধ করেছিলেন। তার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তার সেই অনুরোধ মেনে নিয়েছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের সময় ঋতাভরী ইন্ডাস্ট্রির দুই প্রভাবশালী প্রযোজকের বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে প্রকাশ্যে তাঁদের নাম জানাননি অভিনেত্রী।

২০০৯ সালে ওগো বধূ সুন্দরী ধারাবাহিকের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন ঋতাভরী। পরে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। বহুরূপী, ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি ও ফাটাফাটিসহ বেশ কিছু আলোচিত বাংলা সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও লেখালেখিতেও যুক্ত হয়েছেন ঋতাভরী। নেকেড নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র লিখেছেন ও প্রযোজনা করেছেন তিনি, যেখানে অভিনয় করেছেন কল্কি কোয়েচলিন। এ ছাড়া ২০১৭ সালে অনুষ্কা শর্মা অভিনীত পরী সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। সূত্র: এনডিটিভি

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন