মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক টিকে থাকার রহস্য জানালেন ওমর সানী
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৫ পিএম | ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা জুটি মৌসুমী ও ওমর সানীর প্রেম-ভালোবাসার গল্প পেরিয়েছে তিন দশক। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ চুপিসারে বিয়ের পর নানা সময় সংসার, সন্তান, অভিমান আর বিচ্ছেদের গুঞ্জন ঘিরে আলোচনায় এসেছেন তারা। তবে সব আলোচনা-সমালোচনা পেছনে ফেলে এখনো একসঙ্গে আছেন এই তারকা দম্পতি। দীর্ঘ এই দাম্পত্য জীবনে মৌসুমীর প্রতি নিজের ভালোবাসা ও টানের কথা আবারও জানিয়েছেন ওমর সানী।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর কোন বিষয়গুলো এখনো তাকে আকর্ষণ করে, সে কথাই জানিয়েছেন সানী। তার ভাষায়, মৌসুমীর যত্নশীল স্বভাব এবং জেদ তাকে সবচেয়ে বেশি টানে। পাশাপাশি দুজনের স্বভাবের পার্থক্যও তুলে ধরেছেন তিনি। সানী জানান, মৌসুমী অনেক কথা নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখতে পারেন, কিন্তু তিনি তা পারেন না। তার ধৈর্যও স্ত্রীর তুলনায় কিছুটা কম।
স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয়ের কথা বলতে গিয়ে সানীর কথায় বারবার এসেছে তাদের দুই সন্তান ফারদীন ও ফাইজার প্রসঙ্গ। সন্তানদের নিয়ে মৌসুমীর চিন্তা ও যত্নের কথাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মজা করে সানী বলেন, সন্তানদের পর যদি কিছু বাকি থাকে, তবেই যেন তার কথা আসে।

সংসারের নানা ছোট ছোট মুহূর্তও যে তাদের সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রেখেছে, সেটিও উঠে এসেছে সানীর কথায়। খাবার টেবিলে পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা করে মাংস তুলে রাখার বিষয়টি স্মরণ করে তিনি জানান, এমন ছোটখাটো ঘটনাতেই তাদের পারিবারিক জীবনের স্বাভাবিক আনন্দ লুকিয়ে থাকে।
দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে মৌসুমী ও ওমর সানীর বিচ্ছেদের গুঞ্জনও একাধিকবার ছড়িয়েছে। এসব আলোচনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সানী স্বীকার করেন, মানুষ হিসেবে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই ভুল হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত লেখালেখি হলে সেটিই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মৌসুমীর একটি মন্তব্যও তুলে ধরেন সানী। তার মতে, অনেকের জীবিকা হয়তো এমন আলোচনা ও লেখালেখির ওপর নির্ভর করে।
তবে এসবের বাইরে নিজের অনুভূতির জায়গায় একেবারেই স্পষ্ট ওমর সানী। দীর্ঘ দাম্পত্যের এই বয়সেও স্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘ফারদীন-ফাইজার আম্মু, তোমাকে ভালোবাসি।’

সানীর মতে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও ত্যাগ। তাদের সম্পর্কেও এই দুটি বিষয় রয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মৌসুমীর বকাঝকা, পরামর্শ ও যত্নের কথাও হাসিমুখে তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, মাঝেমধ্যে মৌসুমী তাকে বকেন—কোথায় কী হারাচ্ছেন, কী করছেন, সেসব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আবার কিছুক্ষণ পর তিনিই জানতে চান, কী প্রয়োজন, কী করতে চান। সব মিলিয়ে মৌসুমী তার কাছে খুবই স্বস্তির একজন মানুষ।
তবে তাদের সম্পর্কের শুরুটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হলেও তখনই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়নি। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি ছবির প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীর মোহাম্মদপুরের বাসায় যান। সেখানেই দুজনের প্রথম কথা হয়।
কিন্তু অন্য ছবির ব্যস্ততার কারণে সেই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেননি মৌসুমী। ফলে মন খারাপ করেই সেদিন ফিরতে হয়েছিল সানীকে। এরপর ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা।
সিলেটে ছবিটির শুটিংয়ের সময় দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়েছিল। সেই দূরত্ব অবশ্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সময়ের সঙ্গে মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, পরিবারের আন্তরিকতা ও আচরণ মুগ্ধ করে ওমর সানীকে। ভালো লাগা ধীরে ধীরে রূপ নেয় ভালোবাসায়।
অবশেষে ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের কাছের মানুষ এবং ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার। এরপর কেটে গেছে ৩১ বছর।
নানা সময়ের গুঞ্জন, অভিমান ও আলোচনার মধ্যেও মৌসুমী ও ওমর সানীর সম্পর্ক টিকে আছে বিশ্বাস, ত্যাগ, বোঝাপড়া ও ভালোবাসার ওপর। আর দীর্ঘ এই পথচলায় স্ত্রীকে নিয়ে সানীর সাম্প্রতিক কথাগুলো যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, সময় বদলালেও তাদের সম্পর্কের অনুভূতিটা এখনো একই রকম।
এসএ/এসএন