© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রেস সচিব

শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রেস সচিব

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৪৮ এএম | ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওইদিন রাজধানীর পূর্বাচলে গণসংবর্ধনা মঞ্চে তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’ এরপরই দেশের মানুষের আগ্রহ বাড়ে কী আছে তার এই প্ল্যানে। তবে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট করে এর ব্যাখ্যা কখনো দেননি।  

তারেক রহমানের বহুল আলোচিত বক্তব্য আসলে কী এবং এর পেছনে কী ভাবনা ছিল, তার নতুন একটি ব্যাখ্যা দিলেন তার প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ। 

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও অতীতের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রেস সচিব বলেন, ‘২০২৫ সালে দেশে ফেরার পর তিনি (তারেক রহমান) যখন বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’, সেটি কোনো আকস্মিক রাজনৈতিক স্লোগান বা মুখের কথা ছিল না। এটি ছিল দীর্ঘদিনের সুবিবেচিত ও সুনির্দিষ্ট এক রাষ্ট্রভাবনা। 

এই পরিকল্পনার নেপথ্যের গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই পূর্ব লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে তারেক রহমান বলেছিলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি চাকরির কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা হবে। তিনি সে সময়ই বিদ্যমান কোটা ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন।

ছালেহ শিবলী বলেন, ২০১৪ সালে তিনি যে কোটা সংস্কারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন, ২০১৮ সালে সেই দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় এবং পরে ২০২৪ সালে এসে তা সফলতা লাভ করে। ১০ বছর আগেই দেশের মানুষের আকাক্সক্ষা অনুধাবন করতে পারা এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা দেওয়াই একজন দূরদর্শী নেতার আসল পরিচয়।

বক্তব্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে নিজ নিজ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে প্রেস সচিব বলেন, অন্যের পরিবারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে বা অন্যের কথা বলে নিজের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার মধ্যে কোনো গৌরব বা গর্ব নেই। রাজনীতি কেবল মিছিল-মিটিং কিংবা প্রতিপক্ষকে হেয় করার বিষয় নয়; বরং ব্যক্তিক ও পারিবারিক মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব।

প্রেস সচিব স্মরণ করিয়ে দেন, তারেক রহমান লন্ডনে থাকাকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সব বাধা-প্রতিবন্ধকতা পার করে এবং জনগণের রায়ে তিনি যে রাষ্ট্রচিন্তা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন, আজ সেই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, গুঞ্জন ও মিথ্যাচার রোধে উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ।

তিনি বলেছেন, স্বাধীনতা মানে হচ্ছে এটা নয় যে, যা ইচ্ছা আপনি তা লিখবেন। গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই-বাছাই বা ‘ফ্যাক্ট চেক’-এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদকর্মী ও বিভিন্ন সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

ছালেহ শিবলী বলেন, এই বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতার পক্ষে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে। সংবাদপত্রের, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে। আমরা যখনই এই কথাটা বলি, স্বাধীনতার কথা বলি, তখন আমরা যেন স্বৈরাচারী না হয়ে উঠি। স্বাধীনতা মানে হচ্ছে এটা নয় যে, যা ইচ্ছা আপনি তা লিখবেন। প্রায় ৭ কোটির মতো মানুষ এখন বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহার করি। এখন আপনার ইচ্ছা হচ্ছে, আপনি কারও বিরুদ্ধে লেখা শুরু করবেন। তো কারও বিরুদ্ধে যখন লেখা শুরু করবেন, তার কোনো বক্তব্য তো আপনাকে নিতে হবে।  

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন