© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার’, জাতিসংঘে ট্রাম্পকে কড়া জবাব পেজেশকিয়ানের

শেয়ার করুন:
‘আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার’, জাতিসংঘে ট্রাম্পকে কড়া জবাব পেজেশকিয়ানের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩২ পিএম | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘আমরা সন্ত্রাসী নই, আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার।’ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণের শুরুতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি গতকাল আপনাদের সামনে বক্তব্য দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমাদের সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমরা সন্ত্রাসবাদের শিকার।’

এর এক দিন আগে জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার পদক্ষেপ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। একইসঙ্গে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘ধ্বংস করে দেয়ার’ হুমকিও দেন।

ভাষণের শুরুতেই পেজেশকিয়ান ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ছবি হাতে তুলে ধরেন। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হন। এরপর তিনি হামলায় নিহত শিশুদের ছবিও প্রদর্শন করেন।

ইরানের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তেহরানের সংঘাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার-সংক্রান্ত নথিতেও ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলায় বেসামরিক মানুষ ও একটি স্কুলে হতাহতের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

এর আগে ট্রাম্পের ভাষণের সময় জাতিসংঘের সভাকক্ষ থেকে ইরানের প্রতিনিধিদলের বেশির ভাগ সদস্য বেরিয়ে যান। পেজেশকিয়ান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তখন সভাকক্ষে ছিলেন না।

৭১ বছর বয়সী পেজেশকিয়ান ২০২৪ সালের নির্বাচনে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফার ভোটে কট্টরপন্থি প্রার্থী সাঈদ জলিলিকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হন তিনি।

পেশায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পেজেশকিয়ান ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় চিকিৎসক ও যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। যুদ্ধের সম্মুখসারিতে চিকিৎসা দল পাঠানোর দায়িত্বও পালন করেন তিনি। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন