© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জনকারী দেশগুলোর তালিকা করেছে ইসরায়েল

শেয়ার করুন:
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জনকারী দেশগুলোর তালিকা করেছে ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:০৪ এএম | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের হলে অস্বাভাবিক এক দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে এক ইসরায়েলি কূটনীতিককে অধিবেশনকক্ষে ঘুরে ঘুরে বিক্ষোভের প্রতিবাদে ভাষণের আগে ও ভাষণ চলাকালে বেরিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিনিধিদলগুলোর নাম সতর্কতার সঙ্গে নোট করতে এবং রেকর্ড করতে দেখা যায়। ঘটনাটি ঘটে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি কূটনীতিক হলের সারিগুলোর মধ্যে হেঁটে হেঁটে বেরিয়ে যাওয়া প্রতিনিধিদের তালিকা তৈরি করছেন।

একজন পর্যবেক্ষক রসিকতা করে ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করেন, ‘নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ১০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি বেরিয়ে যাওয়ার পর ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ঠিক কারা হল ছেড়ে গেছেন, তা যাচাই করতে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। আশা করি, তারা অতিরিক্ত পৃষ্ঠা সঙ্গে এনেছিলেন। কারণ নেতানিয়াহুর প্রতি যারা বিরক্ত হয়ে গেছে, সেই দেশগুলোর তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।’

বিদ্রূপ ও উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য

অধিবেশন শুরু হয় স্পষ্ট উত্তেজনার মধ্যে। নেতানিয়াহু পোডিয়ামে উঠতেই হলে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ বিভিন্ন স্লোগান ও বিদ্রূপের শব্দ শোনা যায়। অন্যদিকে, করতালি সীমাবদ্ধ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদল এবং ওপরের গ্যালারিতে থাকা কিছু উপস্থিত ব্যক্তির মধ্যে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান। বক্তব্য শুরু করার আগে তিনি যারা বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তাদের তীব্র আক্রমণ করে ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেন। এরপর চ্যালেঞ্জের সুরে বলেন, ‘আর কোনো নৈতিকভাবে কাপুরুষ (moral coward) ব্যক্তি যদি এখনো হলে থেকে থাকেন, তাহলে এখনই বেরিয়ে যেতে পারেন।’

প্রতিনিধিদলগুলোর সংখ্যায় পার্থক্য ও ভিন্ন অবস্থান

বহুপক্ষীয় জাতিসংঘের বৈঠকে কূটনৈতিক কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রতীকী প্রতিবাদের একটি প্রচলিত রূপ। এর আগে অনুষ্ঠিত অধিবেশনগুলোতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদল হল থেকে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে, অনানুষ্ঠানিক আরও বিস্তৃত কিছু তালিকায় বলা হয়েছে, প্রায় ৭৭টি দেশ বা প্রতিনিধিদল এই বর্জনে অংশ নিয়েছিল। তবে গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খালি আসনগুলোর কিছু হয়তো এমন প্রতিনিধিদলের ছিল, যারা শুরু থেকেই অধিবেশনে উপস্থিত ছিল না; সেগুলোকে সংগঠিত প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ধরা ঠিক নাও হতে পারে।

যেসব দেশের প্রতিনিধিরা হলে থেকে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কলম্বিয়া, আজারবাইজান ও গ্রিস। ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতও। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব দেশগুলোর মধ্যে আমিরাতই একমাত্র দেশ, যার প্রতিনিধিদল হল থেকে বেরিয়ে যায়নি। এখন পর্যন্ত জাতিসংঘ বা কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্যাপকভাবে হল ত্যাগের ঘটনায় অংশ নেয়া সব দেশ ও প্রতিনিধিদলের চূড়ান্ত বা নিশ্চিত তালিকা প্রকাশ করেনি।

সূত্র: ভয়েস অব এমিরেটস

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন