© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তারেক রহমানের সরকারের আমলে দুর্নীতি ও চুরি হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
তারেক রহমানের সরকারের আমলে দুর্নীতি ও চুরি হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:২১ পিএম | ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মুহুরী-কহুয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ২০২৪ সালে ভয়াবহ বন্যা ফেনীর মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফেনীর মানুষকে বন্যামুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মেগা প্রকল্পটি একনেকে দ্রুত অনুমোদন দিয়েছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার মানুষ ১০০ বছর পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থেকে ‍মুক্ত থাকবে। এই এলাকার মানুষ কৃষি, মৎস্য চাষে শতবছর সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ফেনীর পরশুরামে সুবার বাজার পরশুরাম সড়কের স্টিল ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নির্মাণাধীন সভাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের আমলে প্রকল্প বাস্তবায়নে চুরি ও দুর্নীতি হবে না। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিটি কাজ অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে, কোনো দুর্নীতি হচ্ছে না। পানিসম্পদ মন্ত্রীসহ আমরা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সব ধরনের প্রকল্প নিয়মিত তদারকি করে যাচ্ছি।’

প্রতিমন্ত্রী স্থানীয়দের উদ্দেশে এসময় বলেন, মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সজাগ থাকতে হবে, যেন বাঁধ নির্মাণে ঠিকাদার কোনো অনিয়ম করতে না পারে। কোনো অনিয়ম দেখলে সাথে সাথে স্থানীয় এমপিকে জানাতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের মহাপরিকল্পনার কাজ আগামী ১ অক্টোবর শুরু হবে। এটি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফেনীর উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান তারেক রহমান সরকারের আমলে এই দেশে কোনো অনিয়ম দুর্নীতি হবে না। বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। তাই দেশে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞ প্রকৌশলী রয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় সমীক্ষা করে অনেক গবেষণা করে এই প্রকল্প প্রস্তুত করেছে। বিগত সরকারের জবাবদিহিতা ছিল না।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফেনী হচ্ছে আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মস্থান। এই এলাকা উন্নয়নের জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম সাফায়েত আক্তার নূর, থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম, সদস্য সচিব ইব্রাহিম থলিল মনি, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কাজী ইউসুফ মাহফুজ, বিআরডিবির চেয়ারম্যান আবু তালেব রিপনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানা গেছে, ফেনী সফরের শুরুতে জেলার পরশুরামে ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধের ভাঙন ও বন্যায় মানুষজন যে ক্ষতির মুখে পড়েন, তা থেকে রক্ষা পাবেন। সামগ্রিকভাবে এ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এটির সুফল পাবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, গত ১৬ জুন একনেকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী-কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান। সফরে প্রধানমন্ত্রী তার নানার বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তাছাড়া পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। সফরকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।

সবশেষে ফুলগাজী সরকারি হাইস্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন