© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিমানের নিজস্ব আয় থেকেই বোয়িংয়ের মূল্য পরিশোধ করা হবে : বিমানমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
বিমানের নিজস্ব আয় থেকেই বোয়িংয়ের মূল্য পরিশোধ করা হবে : বিমানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:০৭ এএম | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সরকারি বাজেট থেকে বোয়িং উড়োজাহাজের ক্রয়মূল্য সরাসরি পরিশোধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, বিমানের নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজের মূল্য পরিশোধ করা হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি ধাপে ধাপে হওয়ায় অর্থ পরিশোধও ধাপে ধাপে করা হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুট থেকে আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনা করেই এ ক্রয়পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরাসরি সরকারি বাজেটের ওপর চাপ পড়বে না।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিমান বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়েছিল। ওই চুক্তির ‘রাইট টু পারচেজ অ্যাডিশনাল এয়ারক্রাফট’-এর আওতায় ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরো ১১টি বোয়িং কেনার সম্পূরক চুক্তি হয়েছে। নতুন চুক্তির ১১টির মধ্যে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি ‘বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স’ ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।


মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০ এপ্রিলের চুক্তিতে নির্ধারিত একই দরে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।

ফলে সব মিলিয়ে বিমানের জন্য ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ওয়াইডবডি-দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ও ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ১০টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারোবডি।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩১ সালের নভেম্বরে প্রথম উড়োজাহাজটি ডেলিভারি পাওয়ার কথা রয়েছে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সর্বশেষ উড়োজাহাজ সরবরাহ শেষ হবে। তবে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যেই অন্তত একটি উড়োজাহাজ ডেলিভারি দেওয়ার জন্য বোয়িংকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

এদিকে এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এর মধ্যে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১ নিও ন্যারোবডি। টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্র বহর (মিক্সড ফ্লিট) গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যাত্রী চাহিদা, বিমানের নেটওয়ার্ক ও ফ্লিট পরিকল্পনা, উড়োজাহাজের রেঞ্জ ও আসনসংখ্যা, প্রতি ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্রিকোয়েন্সি বিবেচনা করে ওয়াইডবডি ও ন্যারোবডির সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার বহরে বর্তমানে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমানের বহরে রয়েছে মাত্র ১৯টি। বাংলাদেশের যাত্রী চাহিদার তুলনায় বিমানের বহর ছোট হওয়ায় দেশের মোট বিমানযাত্রীর চাহিদার ২০ শতাংশের কিছু বেশি বর্তমানে বিমান পূরণ করতে পারছে; বাকি অংশ বিদেশি এয়ারলাইনস পরিবহন করছে।

মন্ত্রী বলেন, উড়োজাহাজের স্বল্পতা দূর করতে সরকার সময়োপযোগীভাবে নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্রয়পরিকল্পনায় কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন