পানামায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৯ দেশে সুনামি সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৭ এএম | ১০ অক্টোবর, ২০২৬
পানামায় স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পানামার দক্ষিণ প্রান্তের কাছে প্রত্যন্ত জনপদ পিতালোসা আরিবার প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে।
ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। পরে ইউএসজিএস জানায়, দেশটিতে ৬.৬ মাত্রার দ্বিতীয় আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
কম্পন রাজধানী পানামা সিটিতেও তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এতে ভবনগুলো কেঁপে ওঠে এবং আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় ছুটে আসেন।
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ভূমিকম্পটিকে একটি ‘বড় ধরনের বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি এলাকায় সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে মুলিনো হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।
জাতীয় নাগরিক সুরক্ষা পরিষেবার ওমর স্মিথের মতে, মধ্যাঞ্চলীয় ভেরাগুয়াস, হেরেরা ও লস সান্তোস প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে।
স্মিথ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন। এছাড়া জেলার প্রধান চত্বরে অবস্থিত ক্যাথেড্রালটির কিছু অংশ ধসে পড়েছে এবং এতে ফাটল দেখা দিয়েছে। গভর্নরের কার্যালয়ের ভবন ও দোস কন্টিনেন্তেস হোটেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পানামার লস সান্তোস প্রদেশের ঔপনিবেশিক স্থাপত্যশৈলীর সান আতানাসিও গির্জাটি ধসে পড়েছে। ১৯৩৮ সালে গির্জাটিকে জাতীয় ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা একটি সতর্কতা জারি করে জানায়, পরবর্তী তিন ঘণ্টার মধ্যে পানামা, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, পেরু, নিকারাগুয়া, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর ও মেক্সিকোর উপকূলের কিছু অংশে বিপজ্জনক সুনামির ঢেউ আঘাত হানতে পারে।
এছাড়া ওই ব্যবস্থা হাওয়াইয়ের জন্যও সুনামির হুমকির কথা জানায়। তবে শুক্রবার বিকালের দিকে সতর্কতা তুলে নেয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে পানামা খালের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলপথটি স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।
রাজধানী পানামা সিটির তোকুমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া চালু করে। তবে শুক্রবার বিকালের দিকে বিমানবন্দরটি আবার চালু হয়।
প্রসঙ্গত, পানামা তথাকথিত ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। এটি প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা ভূকম্পনপ্রবণ ফল্ট বা চ্যুতির একটি বলয়, যেখানে বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
আরআই/টিএ