বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণাসহ তাবলীগ জামাতের ছয় দফা দাবি
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪১ পিএম | ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের (মাওলানা সাদ অনুসারী) একটি পক্ষ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের (মাওলানা সাদ অনুসারী) মিডিয়া সমন্বয়ক মো. সায়েমের পাঠানো সংবাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।
মাওলানা সাদ সাহেবের অনুসারীদের দাবিগুলো হচ্ছে— টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের সুনির্দিষ্ট তারিখ দ্রুত ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ইজতেমা ময়দানকেন্দ্রিক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানার মার্কাজ মসজিদ নিয়ে বিরোধ ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগ আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি এবং মসজিদে তাবলীগের ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’ নাম ব্যবহার করে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাদের মতে, ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা মূলত রাজনৈতিক অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা তাবলীগ জামাতের প্রতিনিধিত্ব করেন না। বিশ্ব ইজতেমায় তাদের বয়ান বা বক্তৃতা দেওয়ারও কোনো ইতিহাস নেই। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। আমাদের অভিযোগ, তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং তৃতীয় পক্ষ হিসেবে বারবার তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে উসকে দিচ্ছেন। তাবলীগ জামাতের ধর্মীয় কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ বিষয়কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি।
আমরা ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানকেন্দ্রিক সহিংসতার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি শুরু থেকেই জানিয়ে আসছি। এ ছাড়া টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের তারিখ ঘোষণা, ময়দান ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশের মসজিদগুলোতে তাবলীগের নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
২০১৮ ও ২০২৪ সালের সহিংসতা এবং বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত প্রাণহানির ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এ-সংক্রান্ত তদন্তে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে হবে। তদন্তকারী সংস্থা যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ সালে ইসমাইল মণ্ডল ও শামসুদ্দিন বেলাল এবং ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেলাল হোসেন ও মিজানুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনা ছাড়াও ২০১৯ সালে কিশোরগঞ্জে আব্দুর রহিম রাজন এবং ২০২৩ সালে ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় শামসুল হকের মৃত্যুর ঘটনাগুলো যথাযথ তদন্তের দাবি রাখে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় ইজতেমা ময়দান খালি করার বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে আমরা উল্লেখ করছি। ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং ১৭ ডিসেম্বর রাতে ডা. আসগরের নামে প্রচারিত কথিত অডিও রেকর্ডের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদে তাবলীগের নিয়মিত আমল পরিচালনায় বাধা, মার্কাজ মসজিদ নিয়ে বিরোধ এবং এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি প্রচারণা ধর্মীয় পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই মসজিদে ধর্মীয় কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মার্কাজ মসজিদসংক্রান্ত বিরোধ আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি করা এবং তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগত ধর্মীয় দলের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এসএন