চালের ড্রামে ৩৪ হাজার পিস ইয়াবা, মা-ছেলে গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০১ পিএম | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
রাজধানীর ভাটারায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৩৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় মা মালা বেগম (৬২) ও ছেলে মামুন চোকদারকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি দুই লাখ টাকা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফের নির্দেশনায় এবং ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পরিদর্শক মো. ফজলুল হক খানের নেতৃত্বে গঠিত অভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভাটারা থানার ছোলমাইদ ঢালিবাড়ী কাঁচাবাজার-সংলগ্ন সজল ঢালীর মালিকানাধীন একটি ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। ফ্ল্যাটটির ভাড়াটিয়া মালা বেগম। নিরপেক্ষ দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে পশ্চিম পাশের কক্ষে রাখা চালের ড্রাম থেকে একটি কফি রঙের কাপড়ের সাইড ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
ব্যাগের ভেতরে কাগজ ও স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ১৭টি প্যাকেটে মোট ৩৪ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন ৩ দশমিক ৪০ কেজি। রাত ৯টা ২০ মিনিটে এসব ইয়াবা জব্দ করা হয়।
অভিযানের সময় ফ্ল্যাটে থাকা মালা বেগম ও মামুন চোকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার অপর আসামি সাহিদা বেগম ইতি (৪৮) ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন জানিয়েছেন, উদ্ধার করা ইয়াবার প্রকৃত মালিক ভাটারা থানার জোয়ার সাহারা এলাকার বাসিন্দা সাহিদা বেগম ইতি। তিনি কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে মালা বেগমের বাসায় মজুত রাখতেন। পরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সাইনবোর্ড, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সেগুলো সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
এ ঘটনায় মালা বেগম, মামুন চোকদার ও পলাতক সাহিদা বেগম ইতির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ভাটারা থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসএন