বান্দরবানের লামায় তিন কিশোরী নিখোঁজ, ৫ দিনেও মেলেনি সন্ধান
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫৪ পিএম | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
বান্দরবানের লামায় তিন কিশোরীর নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। স্বজনেরা তাদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
নিখোঁজ তিন কিশোরীর চকরিয়ায় যাওয়ার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এখনো তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের সন্ধানে পুলিশ অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
নিখোঁজ তিন কিশোরী হলো বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকার আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) এবং বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া। তাদের মধ্যে তানিয়া সুলতানা ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্য দুই কিশোরীর শ্রেণি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।
পরিবারের দাবি, রেশমি আক্তার মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে এ তথ্যের সঙ্গে অমিল পাওয়া গেছে। এতে তিন কিশোরী কী কারণে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং পরে কোথায় গেছে, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিখোঁজ তিন কিশোরীর কেউই সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য তার বিদ্যালয়ে যায়নি। ফলে সার্টিফিকেট সংগ্রহের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। তাদের সন্ধান পেতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তিন কিশোরীর নিখোঁজের ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যরা লামা থানায় গত ১৩ অক্টোবর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডির পর পুলিশ তাদের সন্ধানে কাজ শুরু করেছে। নিখোঁজ কিশোরীদের চকরিয়ায় যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও তারা সেখানে ঠিক কোথায় অবস্থান করছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তাদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিচিত কারও সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিশোরীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।
এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তাদের নিখোঁজের কারণ উদ্ঘাটন ও সন্ধান পেতে পুলিশ কাজ করছে।
একসঙ্গে তিন কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। সন্তানদের কোনো বিপদ হয়েছে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের উৎকণ্ঠাও বাড়ছে।
স্বজনদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় দ্রুত নিখোঁজ তিন কিশোরীর সন্ধান মিলবে এবং তারা নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসবে। একইসঙ্গে তাদের নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় এখনো তিন কিশোরীর অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা কাটেনি। তাদের সন্ধানে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
এমআই/এসএন