© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফুটপাতে নেমে এলো বাস: আমেরিকার বাসে যে সুবিধা

শেয়ার করুন:
ফুটপাতে নেমে এলো বাস: আমেরিকার বাসে যে সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত

সাব্বির আহমেদ, মোবাইল জার্নালিজম এডিটর-ইন-চিফ
০৭:০২ পিএম | ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
ক্যালিফোর্নিয়ার রাস্তায় চলন্ত বাসটি ফুটপাতের পাশে এসে থামল। চোখের পলকে বাসটি একপাশে সামান্য ঝুঁকে পড়ল এবং দরজা খুলে মাটির সঙ্গে পুরোপুরি মিশে গেল একটি ভাঁজ করা স্বয়ংক্রিয় র‍্যাম্প। কোনো মানুষের সহায়তা ছাড়াই একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারী তাঁর ওয়াকার ঠেলে অনায়াসে উঠে পড়লেন বাসে। যাত্রী উঠতেই র‍্যাম্পটি নিজে থেকেই আবার ভেতরে গুটিয়ে নিল বাস।

উন্নত বিশ্বে এটি কোনো বিশেষ দৃশ্য নয়, বরং দৈনন্দিন নাগরিক অধিকার। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিক 'আমেরিকান্স উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ অ্যাক্ট' (ADA) পাসের পর গণপরিবহনে প্রবেশগম্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়। 

আধুনিক লো-ফ্লোর প্রযুক্তির পাশাপাশি এতে যুক্ত থাকে ‘নিলিং বাস টেকনোলজি’ (Kneeling Bus), যা হাইড্রোলিক বা নিউম্যাটিক এয়ার সাসপেনশন ব্যবহার করে বাসকে ফুটপাতের উচ্চতায় নামিয়ে আনে। গিলিগ (Gillig) কিংবা নিউ ফ্লায়ারের (New Flyer) মতো শীর্ষ বাস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের অ্যাক্সেসিবল ফিচারের আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণ করেছে। 

শুধু গণপরিবহনই নয়; ব্রনঅ্যাবিলিটি (BraunAbility)-এর মতো বিশেষায়িত কোম্পানিগুলো সাধারণ ভ্যান বা ব্যক্তিগত গাড়িকেও রূপান্তর (Conversion) করে। গাড়ির পেছনের বা পাশের অংশ স্বয়ংক্রিয় র‍্যাম্প বা হাইড্রোলিক লিফটের মাধ্যমে নামিয়ে হুইলচেয়ার সরাসরি ভেতরে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে, যেখানে ‘কিউ-স্ট্রেইন্ট’ লকিং সিস্টেমের মাধ্যমে হুইলচেয়ার সুরক্ষিত রাখা যায়।

এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাসের মেঝে নিচু (Low-floor) হওয়া, প্রশস্ত দরজা, নিরাপদ হুইলচেয়ার লকিং জোন এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল সিগন্যাল থাকা বাধ্যতামূলক। যুক্তরাজ্য, কানাডা কিংবা ইউরোপের গণপরিবহন ব্যবস্থা এক্ষেত্রে পুরো বিশ্বের অনুকরণীয় রোল মডেল।



যুক্তরাষ্ট্রের একেকটি শহর ভৌগোলিক ও পরিকাঠামো অনুযায়ী তাদের গণপরিবহনকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের উপযোগী করে সাজিয়েছে।

সান ডিয়েগো ও লস অ্যাঞ্জেলেস (ক্যালিফোর্নিয়া): সান ডিয়েগোর লাইট রেল বা ‘রেড ট্রলি’গুলোর দরজার র‍্যাম্প সরাসরি স্টেশনের স্পর্শকাতর টাইলসের সাথে নিখুঁতভাবে মিলে যায়। আর এলএ মেট্রো বাসের ‘নিলিং টেকনোলজি’ এবং স্বয়ংক্রিয় ফোল্ডিং র‍্যাম্প যাত্রীদের যেকোনো ফুটপাত থেকে অনায়াসে ওঠার সুযোগ করে দেয়।

ওয়াশিংটন ডিসি (মেট্রোরেল): পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম সফল অ্যাক্সেসিবল ব্যবস্থা ডিসি মেট্রোতে। প্রতিটি স্টেশনে চওড়া লিফট, মেঝের সমতলে ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় ‘ট্যাকটাইল ওয়ার্নিং স্ট্রিপ’ রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক সিটি (এমটিএ বাস ও প্যারাট্রানজিট): সাবওয়ে পুরনো হওয়ায় সেখানে শতভাগ লিফট না থাকলেও নিউ ইয়র্কের প্রতিটি বাস শতভাগ লো-ফ্লোর ও হুইলচেয়ার প্রবেশগম্য। এছাড়া গুরুতর প্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে ‘অ্যাক্সেস-আ-রাইড’ (Access-A-Ride) ডোর-টু-ডোর প্যারাট্রানজিট ভ্যান সেবা। তবে নিউইয়র্কের সাবওয়ে গুলোতে দেখলাম কোন কোন স্টেশনে লিখে দেয়াই থাকে এখানে প্রতিবন্ধীদের ওঠার জন্য র্যম্পের ব্যবস্থা আছে। অর্থাৎ ট্রেনের দরজা খুললেই ট্রেন থেকে বুঝা যায় এখানে প্রতিবন্ধী উঠতে পারবেন কিনা।

সান ফ্রান্সিসকো (MUNI ও ক্যাবল কার): পাহাড়ঘেরা এই শহরে ঐতিহাসিক ক্যাবল কারের বাইরে আধুনিক ট্রাম ও বাসে হাইড্রোলিক ‘বোর্ড-এ-ম্যাটিক’ লিফট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা খাড়া রাস্তায়ও নিরাপদ বোর্ডিং নিশ্চিত করে।

শিকাগো ও সিয়াটল (অডিও-ট্যাকটাইল প্রযুক্তি): শিকাগোর ‘সিটিএ’ এবং সিয়াটলের ‘কিং কাউন্টি মেট্রো’তে দৃষ্টি ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য বাসের ভেতরে পরবর্তী স্টপের নাম স্বয়ংক্রিয় উচ্চৈঃশব্দে ঘোষণার পাশাপাশি বড় ডিজিটাল স্ক্রিনে ভেসে ওঠে এবং হুইলচেয়ার বসার জায়গাগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ফাস্ট-লকিং বেল্ট ব্যবহৃত হয়।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন