© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাজশাহীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেয়ার কারণ জানতে চাইলেন আমির হামজা

শেয়ার করুন:
রাজশাহীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেয়ার কারণ জানতে চাইলেন আমির হামজা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:০৭ এএম | ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
রাজশাহীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের পেছনে কী আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, তা জনসমক্ষে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তার নিজের ফেসবুকে দেয়া এক বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে প্রশাসনের উচিত তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা। তবে অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে? রাষ্ট্র, সমাজ, সুশাসন, দুর্নীতি, জুলুম ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা করা কি ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী?

আমির হামজা বলেন, পবিত্র কোরআন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের অসংগতি নিয়ে আলোচনা কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হলে তার জবাব যুক্তি ও নীতির ভিত্তিতে দেয়া উচিত। কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যের অভিযোগ তুলে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকা উচিত। ধর্মীয় আলোচনা ও রাষ্ট্রের নীতি নিয়ে মতপ্রকাশের মধ্যে পার্থক্য কোথায়, সেটিও স্পষ্ট করা দরকার।

বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও মাহফিল ঘিরে বাধা এবং বিধিনিষেধের অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আমির হামজা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু রাজশাহীর এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা ও পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে কি না।

আমির হামজা বলেন, তার বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়; বরং ধর্মীয় আলোচনা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর চাওয়ার জন্য।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সামনে মাহফিলের অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্তের যথাযথ ব্যাখ্যা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

উল্লেখ্য , আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজশাহীর গোদাগাড়িতে মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় তাফসির কমিটি তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের।
এক ভিডিও বার্তায় মুজিবুর রহমান বলেন, ধর্মীয় আলোচনা এবং তাফসীর মাহফিল যেভাবে বন্ধ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনি। আশা করব, সরকার সচেতনভাবে প্রশাসনকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি যে সরকারের বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিস্ট সরকারের মতোই বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এবং গণতান্ত্রিক অনুষ্ঠান করতে বাধা দিচ্ছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের মত যারা আচরণ করছে তাদেরকে সরকার দায়িত্ব থেকে অপসারিত করে গণতান্ত্রিক মন মানসিকতা পোষণ করেন এমন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব রাখবে।

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন