© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী কুমার শানু'র জন্মদিন আজ

শেয়ার করুন:
কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী কুমার শানু'র জন্মদিন আজ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪৪ পিএম | ২০ অক্টোবর, ২০২৬
নব্বইয়ের দশকের প্রেমের গান, মায়াবী কণ্ঠ আর হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া সুর—এই তিনের সমার্থক হয়ে উঠেছিলেন কুমার শানু। হিন্দি ও বাংলা গানের জগতে নিজের অনন্য কণ্ঠের জাদুতে কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী। আজ ২০ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন। ১৯৫৭ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্ম নেওয়া শিল্পী জীবনের ৬৯ বছরে পা দিয়েছেন। 

কুমার শানুর প্রকৃত নাম কেদারনাথ ভট্টাচার্য। সংগীতের পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। বাবা পশুপতি ভট্টাচার্য ছিলেন সংগীতশিল্পী ও সুরকার। বাবার কাছ থেকেই সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছিলেন তিনি। পরে নিজের প্রতিভা ও সাধনাকে পুঁজি করে সংগীতজগতে এগিয়ে যান। গজলশিল্পী জগজিৎ সিংয়ের সঙ্গে পরিচয় এবং কল্যাণজি-আনন্দজির হাত ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রে গাওয়ার সুযোগ তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রিয় শিল্পী কিশোর কুমারের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেন ‘শানু’ নামটি। 

তবে তাঁর সংগীতজীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আশিকি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ছবিটির গানগুলো শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। রাতারাতি পরিচিতি বাড়ে কুমার শানুর। এরপর ‘সাজন’, ‘দিওয়ানা’, ‘বাজিগর’, ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ এবং ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’র মতো চলচ্চিত্রে তাঁর গাওয়া গান হয়ে ওঠে সময়ের সেরা রোমান্টিক গানগুলোর অংশ। প্রেম, বিরহ, অভিমান কিংবা না-বলা অনুভূতি- সবকিছুই তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে আলাদা মাত্রা। 



কিশোর কুমারের গায়কির প্রভাব থাকলেও সময়ের সঙ্গে নিজের স্বতন্ত্র গায়কির পরিচয় তৈরি করেছেন কুমার শানু। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য, সুরের ওঠানামা এবং আবেগ প্রকাশের ধরন তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। হিন্দি গানের পাশাপাশি বাংলা আধুনিক গান ও চলচ্চিত্রের গানেও রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান। দুই বাংলার শ্রোতাদের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা আজও অটুট।

পেশাগত জীবনে একাধিক বিরল কৃতিত্বের অধিকারী এই শিল্পী। ১৯৯৩ সালে মাত্র এক দিনে ২৮টি গান রেকর্ড করে গিনেস বিশ্ব রেকর্ডে নাম লেখান তিনি। এ ছাড়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য গায়কের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জেতেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রীতে ভূষিত হন তিনি। 

সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন বদলেছে, এসেছে নতুন প্রজন্মের শিল্পী। বদলেছে শ্রোতাদের পছন্দও। তবু কুমার শানুর গাওয়া গান ফিরে ফিরে আসে মানুষের ব্যক্তিগত মুহূর্তে- কখনো পুরোনো প্রেমের স্মৃতিতে, কখনো বিচ্ছেদের বেদনায়, আবার কখনো নিছক ভালো লাগা থেকে। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া গানগুলো তাই কেবল একটি সময়ের স্মারক নয়, বরং উপমহাদেশের জনপ্রিয় সংগীতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

জন্মদিনে কুমার শানুকে ঘিরে ফিরে দেখা হচ্ছে সেই সোনালি সময়, যখন তাঁর কণ্ঠে বেজে উঠত প্রেমের গান আর মুগ্ধ হতো অসংখ্য শ্রোতা। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অর্জন, জনপ্রিয়তা ও স্বকীয়তার যে পরিচয় তিনি গড়ে তুলেছেন, তা তাঁকে সংগীতপ্রেমীদের কাছে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। তাঁর গানের আবেদন তাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা পেরিয়েও বেঁচে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন