© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ধনুশের রাজনীতিতে আসার জল্পনাকে স্বাগত জানাল টিভিকে, বিজয়কে বলল ‘অনুপ্রেরণা’

শেয়ার করুন:
ধনুশের রাজনীতিতে আসার জল্পনাকে স্বাগত জানাল টিভিকে, বিজয়কে বলল ‘অনুপ্রেরণা’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৫৩ এএম | ২১ অক্টোবর, ২০২৬
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) অভিনেতা ধনুশের সম্ভাব্য রাজনৈতিক অভিষেক নিয়ে জল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। দলটির মতে, চলচ্চিত্রজগৎ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে জোসেফ বিজয়ের উঠে আসার যাত্রা নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের কথা ভাবছেন—এমন ব্যক্তিদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

কোয়েম্বাটোরে ধনুশের ভক্ত সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে ‘ধনুশ নরপানি ইয়াক্কাম’ বা ‘ধনুশ কল্যাণ আন্দোলন’ রাখার পর এ আলোচনা সামনে আসে। ওই সভায় সংগঠনের প্রায় ৩ হাজার পদধারী অংশ নেন। তবে ধনুশ নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সভায় শৃঙ্খলা, জনকল্যাণমূলক কাজ ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে প্রবেশের কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করেননি এই অভিনেতা।

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিভিকের মুখপাত্র এম সত্য কুমার বলেন, তাদের রাজনৈতিক যাত্রা অন্যদের রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে অনুপ্রাণিত করছে—এতে তারা আনন্দিত।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে টিভিকে একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে, এতে আমরা খুশি।’ বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রার পেছনে কয়েক দশকের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক কাজ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সত্য কুমার বলেন, ‘বিজয় এর জন্য ৩০ বছর কাজ করেছেন। এটি সহজ নয়।’ তার মতে, নতুন রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব ঘটতে পারে, তবে সেই শক্তি কতটা কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

টিভিকে মুখপাত্রের মতে, ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসতে আগ্রহীদের জন্য বিজয়ের পথ অনুসরণযোগ্য একটি মডেল হতে পারে। তবে রাজনৈতিক দল পরিচালনা করা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য পূর্ণকালীন অঙ্গীকার প্রয়োজন বলে সতর্ক করেন তিনি।

সত্য কুমার বলেন, ‘বিজয় তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে অভিনয় ছেড়ে দিয়েছেন।’ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কতটা বড় ত্যাগ ও অঙ্গীকার প্রয়োজন, তা বোঝাতেই তিনি এ কথা বলেন।

ভক্ত সংগঠন থেকে জনসেবামূলক কার্যক্রম

ধনুশ ও বিজয়ের সাংগঠনিক পদক্ষেপের মধ্যে মিলও রয়েছে। নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রবেশের আগে বিজয় তার ভক্তদের নেটওয়ার্ককে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে সমর্থকেরা বিনামূল্যে খাবার বিতরণ, পাঠাগার স্থাপন এবং আইনি সহায়তা দেওয়ার মতো কাজে যুক্ত হন। পরে এই নেটওয়ার্ক টিভিকের সাংগঠনিক ভিত্তির অংশ হয়ে ওঠে।

ধনুশের ভক্ত সংগঠনও এবার একই ধরনের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গেছে। কোয়েম্বাটোরের সভায় হাজারো পদধারী একত্রিত হন। সভায় সাবেক সাংবাদিক ও এআইএডিএমকে দলের সংসদ সদস্য রবি বার্নার্ড শৃঙ্খলা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) একজন বিজ্ঞানী অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন।

সত্য কুমার বলেন, দুই বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে আত্মপ্রকাশ করলেও দলটির শিকড় আরও গভীরে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভক্তদের একটি ক্লাব হিসেবে শুরু হওয়া সংগঠনকে বিজয় ৩৩ বছর ধরে পরিচর্যা করে জনসেবামূলক সংগঠনে রূপ দিয়েছেন। কঠিন সময়েও বিজয়ের পাশে থাকা ভক্ত ক্লাবের কয়েকজন সাধারণ সদস্য এখন মন্ত্রী হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিজয়ের অনুসৃত কৌশল হুবহু অনুসরণ করা সহজ নয়।’

তামিলনাড়ুতে চলচ্চিত্র ও রাজনীতির দীর্ঘ সম্পর্ক

ধনুশের সংগঠন পুনর্গঠনের ঘটনা তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাজ্যটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্র ও রাজনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতাদের মুখ্যমন্ত্রীর পদে উঠে আসার নজিরও রয়েছে।

প্রভাবশালী লেখক ও চিত্রনাট্যকার সি এন আন্নাদুরাই এবং এম করুণানিধি দ্রাবিড় রাজনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। অন্যদিকে চলচ্চিত্র তারকা এম জি রামচন্দ্রন ও জে জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

তবে চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তা রাজনৈতিক সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয়নি। শিবাজি গণেশন, বিজয়কান্ত, শরৎকুমার ও কমল হাসানের মতো অভিনেতারা রাজনীতিতে এলেও মুখ্যমন্ত্রীর পদে পৌঁছাতে পারেননি। সুপারস্টার রজনীকান্ত শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে প্রবেশের পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ান।

বিজয়ের নির্বাচনি সাফল্য এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনা চলচ্চিত্র তারকাদের রাজনীতিতে আসা নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এখন পর্যন্ত ধনুশের সংগঠনের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনকে সাংগঠনিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে; এটি তার আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক অভিষেকের ঘোষণা নয়। তবে ক্ষমতাসীন দল নিজেই বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করায়, আরেকজন বড় তামিল চলচ্চিত্র তারকা একই পথে হাঁটবেন কিনা—সে প্রশ্ন নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন