নিজের ছোটবেলাকেই ঘৃণা করতাম: মনোজ বাজপেয়ী
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১৯ পিএম | ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
অভিনয়ের দক্ষতা দিয়ে দর্শকের মনে শক্ত জায়গা করে নিয়েছেন মনোজ বাজপেয়ী। পর্দায় তার অভিনয় যতটা প্রশংসিত, পর্দার বাইরের জীবনসংগ্রামের গল্পও ততটাই আলোচিত। কিন্তু বারবার শৈশব, দারিদ্র্য আর জীবনের কঠিন সময়গুলোর কথা বলতে বলতে এবার ক্লান্ত অভিনেতা। অতীতের সেই দিনগুলো নিয়ে আর সাক্ষাৎকার দিতে চান না তিনি। এমনকি নিজের শৈশবকে ঘিরেও একসময় তীব্র বিরক্তি কাজ করত তার মনে।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের সেই অনুভূতির কথা খোলামেলা জানিয়েছেন মনোজ। অভিনেতার ভাষ্য, ‘জীবনের পুরোনো অধ্যায় নিয়ে একই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত । এ কারণেই পডকাস্টে অংশ নেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছি। আমি এখন আর কোনও সাক্ষাৎকারে এই কারণে বসতে চাই না। তাই পডকাস্টে বসা বন্ধ করে দিয়েছি। নিজের ছোটবেলাকেই কেমন যেন ঘৃণা করতাম। মনে হতো কেন একটা গ্রামে জন্মালাম? আমার জীবনের কীভাবে হলো এত দীর্ঘ?’
জীবনের অভিজ্ঞতা মানুষকে অনেক কিছু শেখায়, এমন ধারণা প্রচলিত। তবে নিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে দেখেন মনোজ। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, ‘হয়তো ভাবেন জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছুই শিখেছি। তবে তেমনটা হয়নি। আমি তো চেয়েছিলাম দিল্লিতে জন্মাতে, কিন্তু সেটা হলে আমায় শুধুমাত্র মুম্বাই পর্যন্ত পৌঁছানোর লড়াই করতে হতো।’
বিহারের একটি ছোট গ্রামে কৃষক পরিবারে জন্ম মনোজের। শৈশব কেটেছে আর্থিক অনটনের মধ্যে। নিজের জায়গা তৈরি করতে অভিনয়জীবনেও পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ। তার সাফল্যের গল্পে বারবার উঠে এসেছে সেই প্রতিকূলতার কথা। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন অভিনেতা। তবে একই গল্প বারবার বলতে গিয়ে সেই অধ্যায় যেন তাঁর কাছে ক্লান্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
অতীতের সংগ্রাম অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে, কিন্তু সেই সময়ের মধ্য দিয়ে যাকে যেতে হয়েছে, তার কাছে অভিজ্ঞতাটি মোটেও সহজ নয়। মনোজের কথায়, বাইরে থেকে তার জীবনযাত্রা যতটা অনুপ্রেরণামূলক মনে হোক না কেন, বাস্তবে সেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া ভীষণ কষ্টের।
এ নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়ে মনোজ বলেন, ‘এমন জীবন কে আর চায়? আমার এই সফর অনুপ্রাণিত করবে সকলকে। বাস্তবে যখন ওই পথ ধরে কাউকে যেতে হয়, তখনই বোঝা যায় কতটা কঠিন এই সময়। আমার মনে হয়, পাঁচদিন কেউ টাকা ছেড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করুন। তাহলেই সব শখ মিটে যাবে।’
এসএ/টিএ