আকাশ পানে তাকালেন না কেন মেসি?
অন্ধকারের ঘনত্ব যতটাই হোক, আলো তার প্রখরতা নিয়ে দ্যুতি ছড়াবেই। আলো ছড়িয়েছে বা পায়ের জাদুকর মেসি। রিও ডি জেনেরিওর ঘন কালো আকাশের ঝলমলে আলোকছটা বুয়েনোস আইরেসে আকাশি-সাদাদের কাছেও এসে পৌচেছে। প্রেমিক যুগলের ঠোট স্পর্শ করেছে। ২৮ বছর পর হাজার মাইল দূরে ভক্তদের জন্য এমন এক সকাল এনেছে। উচ্ছ্বাসের খোরাক জুগিয়েছে। মেসি আজও হাটু গেড়ে সবুজ ঘাসের চাদরে বসেছে।
ইশ্বরকে আজ দু হাত তুলে ইশারা করেননি তো কি হয়েছে। ইশ্বরের পানে সতীর্থরা তাকে তুলেই তো ধরেছে। হয়তো এটাও বলেছে ইশ্বর আজ তুমি তোমার ‘দায়’ সেরেছ। চীনের দুঃখ যদি হয় হোয়াংহো নদী, রোজারিও জাদুকর মেসির দুঃখও এতোদিন ছিলো একটি শিরোপা। এমন কতো সংখ্যক সময় স্ক্রল করেছেন, ছলছল চোখে তাকিয়েছিলেন বিপক্ষ দলের শিরোপা উদযাপনকে। লিগ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন, ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ গোল , সর্বোচ্চ শিরোপা কী জেতেননি তিনি। ফুটবলের সর্বোচ্চ শবটা জুড়েই তো তিনি। তবে অধরা ছিলো তার জাতীয় পতাকার রঙে মোড়ানো জার্সিতে একটি শিরোপার। তারও এবার অবসান ঘটলো। সৃষ্টিকর্তা তার ‘দায়’ সারলো, আসর জুড়ে বদলি নামা ডি মারিয়া তার ভার নিলো।
আনন্দ উল্লাসের অনেকটা বাকি। মাঠে ফোন হাতে উচ্চসিত মেসি। স্ক্রিনের ওপারে জীবন সঙ্গিনী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। যখন ছিলো না কোনো কিছু তখন যে ছিলো পাশে আজ শিরোপা যখন হাতে সে তখনও সাথে। করোনা দুরত্বটা কিছু না বাড়ালে মেসি পরিবারের ছবি আজ ছেয়ে যেতো সংবাদমাধ্যমের পাতা আর স্ক্রিনে।
মুকুট তো তারই পাওয়া যে কিনা তার যোগ্য। যোগ্য মেসির যোগ্য প্রাপ্তি। ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে যে কিনা ফুটবল বিশ্বকে আলোচনা করার রসদ জুগিয়েছেন সে মেসিকে ফুটবল ইশ্বর কি হতাশ করতে পারে! ৮৬ বিশ্বকাপের নায়ক মারাদোনা আজ নীল আকাশের গ্যালারি থেকে হাত তালি দিচ্ছেন। ইশ্বরের সে হাত দিয়ে উত্তরসূরীদের জড়িয়ে ধরছেন। আর বলছেন এবার মুছে গেছে গ্লানি, এবার আমি শান্তি।