© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দুই সন্তানকে কাছে রাখতে জাপানি মা ঢাকার আদালতে...

শেয়ার করুন:
মোজো ডেস্ক
০৬:৩৪ পিএম | ২৪ আগস্ট, ২০২১
জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো। পেশায় চিকিৎসক। বাংলাদেশি নাগরিক শরীফ ইমরান। পেশায় প্রকৌশলী। দুই জনের পরিচয় টোকিও-র একটি হাসপাতালে। পরিচয় থেকে ভাললাগা। পরে বিয়ে। ২০০৮ সন থেকে ২০২০ সন পর্যন্ত থেকেছেন এক ছাদের নিচে। ঘর আলো করে এসেছে তিন কন্যা সন্তান।

সম্পর্কে জড়ানোর এক যুগ পর এরিকো-ইমরান এখন আলাদা দুনিয়ার বাসিন্দা। গত জানুয়ারিতে বিচ্ছেদের পথ বেছে নিয়েছেন দুইজনই। বিষয়টি এখানেই শেষ হয়ে যেতো পারতো। কিন্তু না।

তিন সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনী লড়াইয়ে নেমেছেন দুইজন। বিষয়টি গড়িয়েছে দুই দেশের আদালতে। জাপানে এরিকোর দায়ের করা একটি মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার মধ্যেই ইমরান তার দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছেন। ওই দুই মেয়েকে পেতে এরিকো টোকিও থেকে উড়ে এসেছেন ঢাকায়।

ঢাকায় এসে এরিকো সন্তানদের ফিরে পেতে রিট আবেদন করেছেন হাইকোর্টে। আদালত এই রিট আবেদন গ্রহণ করে ৩১শে আগস্ট দুই সন্তানকে হাজির করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এই নির্দেশের দুই দিনের মাথায় সিআইডি এরিকোর দুই শিশু কন্যাকে তাদের বাবার বাসা থেকে নিয়ে আসে। রোববার মধ্যরাতে তাদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে রাখা হয়। সোমবার শিশু দুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার তথ্য হাইকোর্টে উপস্থাপন করেন শিশুদের পিতা ইমরানের আইনজীবী এডভোকেট ফাওজিয়া করিম। পরে ভার্চুয়াল বেঞ্চে দুই পক্ষের শুনানি হয়। শুনানির পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ শিশু দুটিকে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে উন্নত পরিবেশে রাখার নির্দেশ দেন।

এই সময়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিশু দুটির মা এবং দুপুরের পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের বাবা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকতে পারবেন। আদালত দুই পক্ষের আইনজীবীদের এও নির্দেশনা দিয়েছেন যে, এই সময়ের মধ্যে তারা নিজেরা আলোচনা করে একটি সমাধানের পথ বের করে নিতে যাতে শিশু দুটি পরবর্তীতে আর কোনো ভোগান্তির শিকার না হয়। আদালত আদেশ দেয়ার সময় উল্লেখ করেন, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে শিশু দুটি ভোগান্তিতে পড়েছে। এটি কারও কাম্য নয়।

মন্তব্য করুন