© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এন্দ্রিকের গোলে রিয়াল মাদ্রিদের কষ্টার্জিত জয়

শেয়ার করুন:
এন্দ্রিকের গোলে রিয়াল মাদ্রিদের কষ্টার্জিত জয়

ছবিঃ সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:০৮ এএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

কোপা দেল রের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ কিছুটা এগিয়ে গেল রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে।

বুধবার রাতে সান সেবাস্তিয়ানে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিকের একমাত্র গোলেই জয় পায় কার্লো আনচেলত্তির দল। কিলিয়ান এমবাপের অনুপস্থিতিতে আক্রমণে তেমন কার্যকর হতে পারেনি রিয়াল, বরং বারবারই তাদের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে রিয়াল সোসিয়েদাদ।

তবে গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিনের দুর্দান্ত সেভগুলো রিয়ালকে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করে। ম্যাচের শুরুতেই পাওয়া গোল আগলে রেখে কোনোমতে জয় নিশ্চিত করে লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

গোটা ম্যাচে প্রায় ৪৯ শতাংশ পজেশন ধরে রেখে গোলের জন্য রেয়াল মাদ্রিদের নেওয়া ১৪ শটের ৫টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে সোসিয়েদাদের ১১ শটের ৬টি লক্ষ্যে ছিল।

দাঁতের সমস্যায় দলে ছিলেন না এমবাপে। তার অনুপস্থিতিতে অভিজ্ঞ ভিনিসিউস জুনিয়রের সঙ্গে রেয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগে শুরুর একাদশে সুযোগ পান দুই তরুণ আর্দা গিলের ও এন্দ্রিক। যেকোনো প্রতিযোগিতায় একই ম্যাচে এই তিন জনের শুরুর একাদশে খেলার প্রথম ঘটনা এটি।

ম্যাচটি দিয়ে প্রথমবার স্পেনের ঐতিহ্যবাহী দলটির অধিনায়কত্ব করেন ভিনিসিউস।

ম্যাচে প্রথম ভালো সুযোগ পায় সোসিয়েদাদ। চতুর্থ মিনিটে বক্সের বাইরে এক সতীর্থকে পাস দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন তাকেফুসা কুবো, ফিরতি বল পেয়ে তার নেওয়া কোনাকুনি শট ঠেকান লুনিন।

১৯তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েই দলকে এগিয়ে নেন এন্দ্রিক। নিজেদের অর্ধ থেকে জুড বেলিংহ্যামের উঁচু করে বাড়ানো বল প্রথম স্পর্শে গতি কমিয়ে, বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ১৮ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
এই মৌসুমে কোপা দেল রেতে টানা তৃতীয় ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন এন্দ্রিক, আসরে চার ম্যাচে তার গোল হলো মোট চারটি।

২৮তম মিনিটে দ্বিগুণ হতে পারত ব্যবধান। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে বেলিংহ্যাম পাস দেন বক্সে, কাছ থেকে ভিনিসিউসের শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক আলেক্স রেমিরো।

৩৫তম মিনিটে সোসিয়েদাদের এক ডিফেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ভিনিসিউস বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করে সফরকারীরা, তবে রেফারির সাড়া মেলেনি।

৪৩তম মিনিটে লুনিনের দৃঢ়তায় বেঁচে যায় রেয়াল মাদ্রিদ। বক্সের বাঁ দিক থেকে আন্দের বারেনেচেয়ার উঁচু শট এক হাতে ব্যর্থ করে দেন আসরে দলের সবকটি ম্যাচে গোলপোস্ট সামলানো ইউক্রেইনের এই গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বারেনেচেয়াকে বাজেভাবে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন রেয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার রাউল আসেন্সিও, এরপরই ‘আসেন্সিও ডাই’ স্লোগান দিতে থাকে সোসিয়েদাদের কিছু সমর্থক। এতে খেলা বন্ধ করে দেন রেফারি। অধিনায়ক ও দুই কোচের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েক মিনিট পর আবার খেলা শুরু করেন তিনি।

৪৯তম মিনিটে আরেকটি দারুণ সেভ করেন লুনিন। কাছ থেকে মিকেল ওইয়ারসাবালের হেড ফিরিয়ে দেন তিনি। ফিরতি বলে কুবোর শটও ঠেকান।
দুই মিনিট পর দ্বিতীয় গোল পেতে পারতেন এন্দ্রিক, কিন্তু তার শট ক্রসবারে বাধা পায়। ৮২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বেলিংহ্যামের জোরাল নিচু শটে বল এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে জালে জড়াতে যাচ্ছিল, ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে দলকে বাঁচান গোলরক্ষক।
যোগ করা সময়ে সোসিয়েদাদের এক খেলোয়াড় রেয়াল মাদ্রিদের বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করে স্বাগতিকরা। তবে রেফারি সাড়া দেননি।
আগামী ১ এপ্রিল সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে হবে ফিরতি লেগ।

মন্তব্য করুন