© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘আসেনসিও, মরে যাও’ স্লোগানে রিয়াল-সোসিয়েদাদের খেলা থেমে যায়

শেয়ার করুন:
‘আসেনসিও, মরে যাও’ স্লোগানে রিয়াল-সোসিয়েদাদের খেলা থেমে যায়

ছবি : সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১৩ পিএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
সান সেবাস্তিয়ানে প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজানোর আগেই খেলা থেমে যায়। রেফারি হোসে মারিয়া সানচেজ মার্তিনেজ খেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন, যা কিছুক্ষণ স্থগিত থাকে।

কারণ, রিয়াল সোসিয়েদাদের গ্যালারি থেকে রিয়াল সেন্টারব্যাক রাউল আসেনসিওকে উদ্দেশ্য করে ‘আসেনসিও, মরে যাও...’ স্লোগান শোনা যায়। এই আপত্তিকর স্লোগানের পর রেফারি স্পেনের ঘৃণা-বিরোধী প্রোটোকল মেনে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করেন।

এরপর স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় একটি সতর্কবার্তা প্রদর্শিত হয় এবং লাউডস্পিকারের মাধ্যমে দর্শকদের জানানো হয় ‘বর্ণবাদী, জাতিগত বিদ্বেষমূলক বা অসহিষ্ণু স্লোগান দেওয়া যাবে না। দলকে সমর্থন করুন, প্রতিপক্ষকে সম্মান জানান।’

এর পর অবশ্য সেই সুরও থেমে যায়। পরে শুরু হয় খেলা। তবে প্রথমার্ধের পর আর রাউল আসেনসিওকে মাঠে নামাননি কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচের পর রেয়াল মাদ্রিদ কোচ জানালেন, তরুণ ডিফেন্ডারকে তুলে নেওয়ার একটি কারণ দর্শকদের ওই আচরণ।

ঘটনাটি কোপা দেল রের সেমিফাইনালের। প্রথম লেগে রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ।এই ম্যাচেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। এমনিতে সেন্টার ব্যাক হলেও এই ম্যাচে রাইট ব্যাক হিসেবে খেলছিলেন আসেনসিও। দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নিয়ে লুকাস ভাসকেজকে নামানো হয়।

ম্যাচের পর আনচেলত্তি ব্যাখ্যা করলেন এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট। ‘ভিনিসিয়ুস রেফারির সঙ্গে কথা বলার পর রেফারি খেলা বন্ধ করে এবং প্রটোকল প্রয়োগ করে। সে (রেফারি) ঠিক কাজটিই করেছে। পরে আমি ওকে (আসেনসিও) তুলে নিই। দুটি ব্যাপার ছিল এখানে, ওই স্লোগান তো ছিলই, সে হলুদ কার্ডও পেয়েছিল। এজন্যই তাকে তুলে নেই।’

‘স্টেডিয়ামে সুর উঠেছে ‘তুমি মরে যাও’…. এটা তো কারও ভালো লাগার কারণ নেই। সেদিক থেকে এটা ওকে (আসেনসিও) অবশ্যই প্রভাবিত করেছি। সে খুব একটা খুশি ছিল না। আমার মনে হয়েছে, ওকে তুলে নেওয়া ভালো। ওর আবেগে এটা প্রভাব ফেলতে পারে।’

সোসিয়েদাদের অধিনায়ক মিকেল ওইয়ারসাবাল ম্যাচ শেষে এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সমর্থকদের প্রতি। ‘এই ধরনের অপমানের নিন্দা জানাই আমরা। আমরা এসব পছন্দ করি না। আমার মনে হয়, যা হয়েছে সেটিকে তিরস্কার করার অন্য অনেক পথ বা উপায় আছে, কিন্তু এভাবে করা উচিত নয়।’

অধিনায়কের কথার প্রতিধ্বনি ছিল সোসিয়েদাদের কোচ ইমানল আলগুয়াসিলের কণ্ঠেও।‘আমি নিজে এটা শুনতে পাইনি। তবে যদি হয়ে থাকে, অবশ্যই নিন্দা জানাই। আমার স্টেডিয়ামে বা কোনো স্টেডিয়ামেই এমন কিছু হোক, আমরা তা চাই না। আমরা অবশ্য নিন্দা জানাই, এসব হতে পারে না।’

রিয়ালের ২২ বছর বয়সী সেন্টারব্যাক আসেনসিওর বিরুদ্ধে দর্শকদের স্লোগান উঠছে স্পেনের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে। কারণ, মাঠের বাইরে পুরোনো একটি বিতর্কে সম্প্রতি খবরের শিরোণামে উঠে এসেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে দর্শকদের খেপে ওঠার কারণ একটি পুলিশি মামলা। রিয়ালের বয়সভিত্তিক দলের দুজন খেলোয়াড় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়ের আপত্তিকর ভিডিও করেছিলেন, যেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার অভিযোগে মামলা এবং তদন্ত চলছে স্পেনের আদালতে আসেনসিওর বিরুদ্ধে।

মন্তব্য করুন